| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাউতারা রিং বাঁধে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার অপচয়, স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় চলনবিলের কৃষক

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১২, ২০২৬ ইং | ১৫:০৯:৪০:অপরাহ্ন  |  ১৩৬৩ বার পঠিত
রাউতারা রিং বাঁধে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার অপচয়, স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় চলনবিলের কৃষক

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা এলাকায় ড্রেজারের বালু দিয়ে নির্মাণ করা হয় অস্থায়ী রাউতারা রিং বাঁধ। চলনবিলের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, চাটমোহর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, আত্রাই, রাণীনগর, শেরপুর ও নন্দীগ্রামসহ ১৪ উপজেলার হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান রক্ষার জন্য প্রতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বাঁধ নির্মাণ করে।

স্থানীয় সূত্র ও তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত চার বছরে রাউতারা স্লুইস গেটের পশ্চিম পাশে প্রায় ১ হাজার ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের অস্থায়ী এ রিং বাঁধ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। চলতি বছরও বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। তবে নির্মাণের এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই বিভিন্ন কারণে বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত বা কেটে দেওয়া হয়। এতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না কৃষকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ আহরণ ও নৌ চলাচলের সুবিধার জন্য প্রতিবছর জুন মাসের শেষ দিকে বাঁধের বিভিন্ন অংশ কেটে দেন স্থানীয় মৎস্য শিকারি ও নৌযান শ্রমিকরা। এছাড়া বাঁধের বাঁশ, খুঁটি ও বালুর বস্তা লুট করে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। ফলে রাউতারা রিং বাঁধ যেন ‘নির্মাণ ও ভাঙনের’ চক্রে আটকে আছে।

জানা যায়, চলনবিলের কৃষিজমি রক্ষায় ১৯৮০ সালে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় বাঘাবাড়ি-নিমাইচড়া অংশের রাউতারা স্লুইস গেটের পশ্চিম পাশে বাঁধটি ভেঙে যায়। এরপর থেকেই প্রতিবছর ওই স্থানে বালু দিয়ে অস্থায়ী রিং বাঁধ নির্মাণ করে আসছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

কৃষকদের দাবি, রাউতারা থেকে তাড়াশের নিমাইচড়া পর্যন্ত একটি স্থায়ী বাঁধ ও আধুনিক পাম্প হাউস নির্মাণ করা হলে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ হবে, অন্যদিকে বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, চলনবিল অঞ্চলে প্রায় ৬২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়। কিন্তু আগাম বন্যার পানি ঢুকে পড়লে কাঁচা ও আধাপাকা ধান নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় ধান কাটার আগেই পানিতে তলিয়ে যায় পুরো ক্ষেত। ফলে প্রতি বছর রাউতারা বাঁধ নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয় কৃষকদের।

পোতাজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, “এখানে স্থায়ী বাঁধ ও পাম্প হাউস নির্মাণ করা হলে দুই ফসলি জমিতে সারা বছর বহুমুখী ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে কৃষকরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি এলাকার অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “স্থায়ী বাঁধের পাশাপাশি আধুনিক পাম্প হাউস নির্মাণ করা হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়বে। বর্তমানে বন্যায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর গো-চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় খামারিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন।”

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও রিং বাঁধের তদারকি কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, “চলতি বছরের প্রাক্কলনে বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। কম্বাইন বা মাল্টি-ভেন্ট রেগুলেটরসহ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য বৃহত্তর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।”

সচেতন মহলের মতে, রাউতারা এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা গেলে শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, চলনবিলের এক ফসলি জমি সারা বছর কৃষি উৎপাদনের আওতায় আসবে। এতে কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪