রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্ষা মৌসুম এলেই ঢাকার সমন্বয় সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, ঢাকা দেশের অর্থনীতির কেন্দ্র। একজন প্রশাসক রাতারাতি সবকিছু বদলে ফেলতে চাইলেও তা সম্ভব নয়। রাজধানীকে বাসযোগ্য করতে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা নানা সমস্যার ফলেই রাজধানীর বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উন্নয়নশীল ও সীমিত সম্পদের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা। সময়ের সঙ্গে রাজধানীর জনসংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বর্জ্যের পরিমাণও। কিন্তু নাগরিক দায়িত্ববোধ ও সচেতনতার অভাব এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
নাগরিক সচেতনতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিদেশে মানুষ একটি চকলেটের মোড়ক ফেলতেও ডাস্টবিন খোঁজেন। এটি মূলত মানসিকতার বিষয়। দেশের মানুষকেও সেই সচেতনতা অর্জন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। রাজধানীকে বাসযোগ্য করে তুলতে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে নাগরিক দায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো এলাকার সচেতন নাগরিকদের মাধ্যমে এ সচেতনতা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। পাশাপাশি স্কুল পর্যায় থেকেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নদী দখলের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তুরাগ নদী দীর্ঘদিন ধরে দখলের শিকার হয়েছে। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদী দখলমুক্ত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তার ভাষায়, এই নদীগুলোকে বাঁচাতে না পারলে ঢাকাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।
বক্তব্যে রাজধানীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার ইতিবাচক প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর ফলে সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। কারণ আইন ভঙ্গ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকায় মানুষ নিয়ম মানতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম