রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুধু ঘোষণা নয়, কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় এনে এমন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের সাহস না পায়।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
জাতীয় সংসদকে দেশের মজলুম ও সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার ‘মিলনমেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদের কার্যক্রম যত বেশি নিয়মতান্ত্রিক ও কার্যকর হবে, জনগণের আস্থা ততই বৃদ্ধি পাবে এবং দেশ গঠনে তারা আরও উৎসাহিত হবে।
তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি ও নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়নে একজন বলিষ্ঠ অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে সব দলের সদস্যরা সমানভাবে কথা বলার ও মতামত দেওয়ার সুযোগ পান।
বাজেট ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল যথেষ্ট আলোচনা ছাড়াই পাস করা হয়েছে। এতে বিরোধী দল তাদের মতামত তুলে ধরার পূর্ণ সুযোগ পায়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সংসদে আরও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সাম্প্রতিক বন্যা, ভূমিধস ও পানিতে ডুবে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে চট্টগ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি সরকারের বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ করেন।
রাজধানীর জলাবদ্ধতা ও দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সমালোচনা করে ড. শফিকুর রহমান বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা শহর ড্রেনের পানিতে তলিয়ে যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। তিনি ঢাকাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের দাবি জানান।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার আহ্বান জানান।
উন্নয়ন বাজেট বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রেই উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনায় ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতাদের নামফলক বসানোর সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব নামফলক পরিবর্তনে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ অপচয় হয়। জনগণের অর্থে আত্মপ্রচার নয়, বরং জনকল্যাণমূলক কাজই রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। এখন প্রয়োজন সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন। দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া জুলাই বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানান ড. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ারও দাবি জানান তিনি। স
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম