মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরের কালকিনিতে ১৫৮ নম্বর চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ নানা অভিযোগ তুলেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি আক্তার। একইসঙ্গে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে করা মামলাকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি আক্তার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ইমাম হোসেন বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই তার উপস্থিতি, দায়িত্ব পালন, দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয়ে তাকে সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
লিপি আক্তারের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক ইমাম হোসেন নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। অনুমোদন ছাড়া ছুটি নেওয়া এবং বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগও করেন তিনি। এছাড়া বিদ্যালয়ে বসে ধূমপান করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় বলেও দাবি করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
সংবাদ সম্মেলনে লিপি আক্তার আরও দাবি করেন, গত ২ জুলাই বিদ্যালয় ছুটির পর অন্য এলাকায় ইমাম হোসেন হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় পরদিন ৩ জুলাই তাকে প্রধান আসামি করে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে হামলার সময় তিনি বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে ছিলেন এবং ওই ঘটনার সঙ্গে তার বা পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
ইমাম হোসেনের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ও মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
এসব বিষয়ে কালকিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান লিপি আক্তার। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা, ছুটির আবেদন ও অনুমোদন, ফিডিং রেজিস্টার এবং অনলাইন ভিজিটর তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানান তিনি।
তার ভাষ্য, নিরপেক্ষ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে হয়রানিমূলক মামলা ও অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহকারী শিক্ষক ইমাম হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। তবে তাদের মধ্যে কী নিয়ে দ্বন্দ্ব, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা নেই। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে পারবেন বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব