📍 খুলনা প্রতিবেদক | রিপোর্টার্স২৪
খুলনায় গত ৩৬ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত তলিয়ে গেছে পানিতে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী, নিম্নআয়ের মানুষ ও পথচারীরা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরীর নিচু এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের।
ভেঙে পড়েছে রেকর্ড রুমের ছাদ, ভিজেছে শতাধিক নথি
টানা বৃষ্টির মধ্যেই মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ভোরে ধসে পড়ে খুলনা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড রুমের ছাদ। এতে রেকর্ড রুমে থাকা শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও বই পানিতে ভিজে গেছে।
জেলা রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান জানান, “ভবনটি শত বছরের পুরোনো, ঝুঁকি নিয়ে কাজ চলছে। আমরা বিকল্প জায়গা খুঁজছি।”
জলাবদ্ধ রাস্তায় চলাচল অসম্ভব
শহরের রয়েল মোড়, টুটপাড়া, আহসান আহমেদ রোড, বয়রা, মুজগুন্নি, সোনাডাঙ্গা, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রোড, খালিশপুর, দৌলতপুর, কুয়েট রোড ও ফুলবাড়িগেট এলাকায় রাস্তাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। ইজিবাইক ও রিকশা চলাচলে দেখা দিয়েছে বিপর্যয়।
“বৃষ্টিতে মাদ্রাসার মাঠেও পানি, ছেলেকে খাওয়াতে পারিনি”
মুজগুন্নির বাসিন্দা মেরাজ আল সাদী বলেন, “১২ নম্বর রোডের বাইতুন মামুর মসজিদেও পানি উঠেছে। ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে, দুপুরে খাবার নিয়ে গিয়ে দেখি সব জায়গায় পানি।”
রিকশা চালক রনি বলেন, “বৃষ্টিতে লোকজন বের হয় না। যে কয়জন হয়, তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে ১০ টাকা বেশি চাই। কেউ দেয়, কেউ দেয় না।”
বৃষ্টির কারণ লঘুচাপ
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, “বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে এই ভারী বর্ষণ। গতকাল সকাল ৬টা থেকে আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।”
নগরবাসীর দাবি, দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ পরিকল্পনা ছাড়া প্রতিবছরের এই দুর্ভোগ কাটবে না।
📎 রিপোর্টার্স২৪/এস