📍 নোয়াখালী প্রতিনিধি | রিপোর্টার্স২৪
নোয়াখালীতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। জেলার অধিকাংশ শহর ও গ্রামীণ এলাকায় রাস্তাঘাট ডুবে গেছে, বসতঘরে ঢুকে পড়েছে পানি। এর মধ্যে ফেনীর মহুরী নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় জেলার নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
১৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, নদীতে পানির চাপ
বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার নদ-নদীতে পানির উচ্চতা এক দিনে ১৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে, যা বিপদসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে।
পরীক্ষা স্থগিত, স্কুল ডুবেছে পানিতে
বৃষ্টির কারণে জেলার সদর, সুবর্ণচর, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জে মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুর উদ্দিন জাহাঙ্গীর জানান, অনেক স্কুলে পানি ঢুকে গেছে এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত রাস্তাও পানির নিচে।
মাইজদী শহরে হাঁটুপানি, রাস্তাঘাট অচল
নোয়াখালী পৌর শহরের মাইজদী ও আশপাশের এলাকায় স্টেডিয়াম পাড়া, জেলখানা সড়ক, ফকিরপুর, হরিনারায়ণপুর, হাউজিংসহ বেশিরভাগ এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে গেছে। অনেকের বাড়ির নিচতলা ও কাঁচা ঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। চলতি বর্ষায় বিভিন্ন সড়কে তৈরি হওয়া গর্তে সড়কগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ, সুবর্ণচর, সেনবাগেও একই দুর্ভোগ
কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌর এলাকায় করালিয়া, মওদুদ স্কুল, কলেজ গেট, হাসপাতাল গেটসহ বহু এলাকায় রাস্তা ডুবে আছে। বেগমগঞ্জ, সেনবাগ ও কবিরহাটেও ব্যাপক জলাবদ্ধতার খবর মিলেছে।
কারণ ড্রেনেজ দুর্বলতা, দোষারোপে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, শহরের জলাবদ্ধতার মূল কারণ ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ও জলাশয় ভরাট। হালকা বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে। অনেকে পৌরসভার নিষ্ক্রিয়তা ও ভূমি দখলকে দায়ী করেছেন।
ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস, বন্ধ দোকানপাট
জলাবদ্ধতায় জেলার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। রাস্তায় মানুষ কম, যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত। বাজারে দেখা দিয়েছে একধরনের স্থবিরতা।
প্রশাসনের প্রস্তুতি চলছে
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ জানান, “আমি নিজে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি বৈঠকে বসেছে।”
📎 রিপোর্টার্স২৪/এস