📍 কুমিল্লা প্রতিনিধি | রিপোর্টার্স২৪
টানা বৃষ্টিপাত এবং ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা উজানের ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে এটি বিপৎসীমার ১ দশমিক ৬২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আশপাশের এলাকাগুলোতে বাড়ছে বন্যার আতঙ্ক।
৪৮ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে প্রায় ৬ মিটার
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টায় গোমতীর পানি রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৬৮ মিটার। নদীর বিপৎসীমা ১১ দশমিক ৩ মিটার হওয়ায় এখনও কিছুটা নিচে রয়েছে, তবে ৪৮ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে প্রায় ৫-৬ মিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৮টায় গোমতীর পানি ছিল ৮ মিটার। রাত ১২টা পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯.৪২ মিটারে। এরপর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ তা আরও ২৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়।
উজান থেকে ঢল বন্ধ না হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো. ওয়ালিউজ্জামান বলেন, “স্থানীয়ভাবে বৃষ্টিপাত কমলেও উজানে ভারী বর্ষণ অব্যাহত। ফলে গোমতীর পানি এখনও বাড়ছে। পানির গতি কিছুটা কমলেও ঢল না থামা পর্যন্ত বন্যা ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।”
পুরোনো ক্ষত শুকাতে না শুকাতে নতুন শঙ্কা
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গত বছরের বন্যায় তারা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। এখনও সে ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তার মাঝেই নতুন করে আরেকটি সম্ভাব্য বন্যার মুখোমুখি তারা।
নদীপাড়ের বাসিন্দা আমির আলী বলেন, “গত বছর ঘর হারিয়েছি, এবার নতুন ঘর করেছি। আবার যদি পানি ওঠে, তখন আর কিছুই করার থাকবে না।”
একই কথা বলেন খোরশেদা বেগম, “বন্যা এলে শুধু পানি নয়, সবকিছু ভেসে যায়। এবার যেন না আসে—এই দোয়া করছি।”
প্রশাসনের প্রস্তুতি: ৫৮৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত
বন্যার আশঙ্কায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পঙ্কজ বড়ুয়া জানিয়েছেন, “জেলা জুড়ে ৫৮৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি পণ্য মজুত রয়েছে। প্রত্যেক উপজেলায় ইউএনও ও জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
অপেক্ষা এখন—উজানের পরিস্থিতির ওপর
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কুমিল্লায় বৃষ্টির গতি কমলেও ত্রিপুরা ও ভারতের উজানে বৃষ্টি থামছে না। ফলে গোমতীর পানি আরও বাড়তে পারে—এমন শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও ২৪-৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
📎 রিপোর্টার্স২৪/এস