ভেনেজুয়েলার সরকার পরিবর্তনের জন্য সামরিক অভিযান পরিচালনা ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি।
সফল সামরিক অভিযানের জন্য মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার সামরিক অভিযান একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লাইভ দেখেছেন তিনি এবং তার কাছে গোটা অভিযান ‘টেলিভিশন শো’-এর মতো মনে হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ভেনেজুয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে তিনি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পদক্ষেপে ‘অঞ্চলটির জন্য উদ্বেগজনক প্রভাব’ রয়েছে।
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যকার উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে স্পেন।
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর দেশটির বিশাল তেলসম্পদ নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় তেল কোম্পানি ভেনেজুয়েলায় গিয়ে তেল খাত পুনর্গঠন ও উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগ করবে।
ক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আটক হওয়ার পর দেশটি এখন নেতৃত্বহীন ও অস্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে। শনিবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টায় দেড় ঘণ্টার অভিযানে মাদুরোকে আটক করা হয় এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার পরবর্তী নেতৃত্ব কে হবেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিশেষজ্ঞরা আলোচনা শুরু করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করেছে এবং ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরবর্তী ভেনেজুয়েলার শাসক নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র ‘সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকবে’। মাদুরোর আটক ও অভিযান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন,মাদুরোর অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং অন্য কেউ ক্ষমতা দখল করার ঝুঁকি এড়াতে আমরা সক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হাতে আটক হওয়া ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী যুদ্ধজাহাজে করে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ফক্স নিউজকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মাদুরো ও তার স্ত্রী ইউএসএস ইও জিমা জাহাজে আছে। তাদের নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। হেলিকপ্টারে তাদের প্রথমে প্রাসাদ থেকে বের করে আনা হয়। তারা হেলিকপ্টারে খুব ভালো একটি ফ্লাইটে করে গেছেন আমার বিশ্বাস তারা এই ফ্লাইট খুব পছন্দ করেছেন। কিন্তু মনে রাখুন, মাদুরো ও তার স্ত্রী অনেক অনেক মানুষকে হত্যা করেছেন।
ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পরও তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ আন্দোলনের সামনে অটল থাকবেন। রেকর্ড করা এক টেলিভিশন ভাষণে খামেনেই বলেছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র শত্রুর কাছে হার মানবে না” এবং “বিদ্রোহীদের তাদের স্থানে ফিরিয়ে আনা হবে।
রাশিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সেসের আইন ও জাতীয় নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের সামরিক বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার স্টেপানোভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রায় সমস্ত বিমানঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছে। এর মধ্যে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ছিল- এমন বিমানঘাঁটিও রয়েছে। সমস্ত সামুদ্রিক ও বিমান সরবরাহ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বা
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান, যার ফলে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, মাদুরো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন এবং তার আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আর কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডো বাহিনীর হামলা ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার খবরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শনিবার ভোরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পর শহরের বেশিরভাগ সড়ক ছিল ফাঁকা। ভোরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়। প্রেসিডেন্ট ভবন মিরাফ্লোরেসের আশপাশে চেকপোস্ট বসানো হয়। সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি ছাড়া সেখানে তেমন কাউকে দেখা যায়নি। তেলসমৃদ্ধ দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়ে রাশিয়া বলেছে, এই হামলার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। এটি হামলার পেছনে কূটনীতির চেয়ে ‘আদর্শিক বৈরিতা’ প্রাধান্য পেয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আজ সকালে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সশস্ত্র আগ্রাসন চালিয়েছে। এটি গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং নিন্দনীয়।’
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির অবস্থান অজানা বলে জানিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস। তিনি জানিয়েছেন, নিকোলাস মাদুরো ও ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস কোথায় আছেন—সে সম্পর্কে সরকারের কোনো জ্ঞান নেই। যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনিজুয়েলার