আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর দেশটির বিশাল তেলসম্পদ নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় তেল কোম্পানি ভেনেজুয়েলায় গিয়ে তেল খাত পুনর্গঠন ও উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগ করবে।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই দাবির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
শনিবার ভোরে রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আকাশে সামরিক বিমান উড়তে দেখা যায়, কিছু সামরিক স্থাপনার কাছে ধোঁয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার খবর পাওয়া গেছে। ভেনেজুয়েলার সরকার রাজধানীসহ কয়েকটি রাজ্যে হামলার কথা জানিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং দেশব্যাপী প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এটি কোনো যুদ্ধ নয়; বরং মাদক পাচার ও নিরাপত্তাজনিত হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত একটি অভিযান। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের নেটওয়ার্ককে সহায়তা করে আসছে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল খাত নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ধসে পড়েছে এবং সম্ভাবনার তুলনায় খুব কম উৎপাদন হচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষায়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো সেখানে যাবে। তারা কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করে ভেঙে পড়া তেল অবকাঠামো মেরামত করবে এবং দেশটির জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘সামরিক আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য দেশটির তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ ও নজরদারি চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি