স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর: ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত হত্যাকান্ডে দন্ডপ্রাপ্ত আসামীর স্বজনরা চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহ্ আলম ছিলেন তৎকালীন ফেনী পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার থানা সংলগ্ন মোড়ে ব্যানার হাতে মানববন্ধনে অংশ নেন তারা। মানববন্ধনকারীরা অভিযোগ করেন, নুসরাতের আত্মহত্যাকে হত্যার মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে এবং মামলায় ১৬ জন নিরপরাধ ব্যক্তিকে রিমান্ডে নিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। তারা দাবি করেন, তদন্তের নামে বিপুল অর্থ আদায় ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ে জড়িত ওসি শাহ্ আলম ও সাবেক পিবিআই প্রধান বনজ কুমারকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং আদায়কৃত টাকা ফেরত দিতে হবে।
তবে মানববন্ধনের সময় বিএনপির কয়েকজন স্থানীয় নেতা এসে ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং মানববন্ধনকারীদের সরে যেতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। কারণ ওই সময় এলাকায় বিএনপির একটি অনুষ্ঠান চলছিলো।
অভিযোগ রয়েছে, একই সময় বিএনপির ওই কর্মীরা বাংলা এডিশন নামের একটি নিউজ পোর্টালের সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেন। সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, প্রথমে তাদের ক্যামেরা নিয়ে ফুটেজ চেক করা হয়, পরে ফেরত দেওয়া হলেও কিছুক্ষণ পর আবার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহ্ আলম বলেন, “নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমি তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলাম। আমি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। বিচার আদালত করেছে। তারা মনে করছেন ন্যায়বিচার পাননি, তাই মানববন্ধন করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ফেনী থেকে এসে তারা মানববন্ধন করেছেন, সেটি তারা করতে পারেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন এই বিষয়ে আগে অবহিত ছিল না। ওই দিন বিএনপির দুটি অনুষ্ঠান থাকায় পুলিশ দুই স্থানে দায়িত্ব পালন করছিলো। সাংবাদিকদের ক্যামেরা কারা নিয়েছে, সেটি বলতে পারছি না। তারা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রিপোর্টার্স ২৪/ প্রীতিলতা