| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শেষকৃত্যেও ইতিহাস রচনা করে গেলেন জুবিন

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫ ইং | ০৭:৫৯:৩৮:পূর্বাহ্ন  |  ১৫০৯৮০৬ বার পঠিত
শেষকৃত্যেও ইতিহাস রচনা করে গেলেন জুবিন
ছবির ক্যাপশন: শেষকৃত্যেও ইতিহাস রচনা করে গেলেন জুবিন

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :
জনপ্রিয় অসমীয়া গায়ক ও সাংস্কৃতিক আইকন জুবিন গার্গ-এর শেষকৃত্য সম্পন্ন হলো পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। মঙ্গলবার গুয়াহাটির কাছাকাছি কমারকুচি গ্রামে, লাখো ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী এবং রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাকে চিরবিদায় জানানো হয়।
প্রিয় শিল্পীর মরদেহ মঙ্গলবার সকালে গুয়াহাটির অর্জুন ভগেশ্বর বরুরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স থেকে ফুলে সজ্জিত একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয়। গত দুইদিন ধরে এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সে লক্ষাধিক মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জুবিন গার্গের মরদেহটি একটি ঠাণ্ডা কাচের কফিনে রাখা ছিল এবং তাকে আসামের ঐতিহ্যবাহী গামছা দিয়ে মোড়ানো হয়। কফিনের পাশে ছিলেন তার ৮৫ বছর বয়সী পিতা, স্ত্রী গরিমা শইকীয়া ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
এদিন তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শোভাযাত্রায় হাজার হাজার ভক্ত পদব্রজে অংশ নেন। যারা “জয় জুবিন” ধ্বনি দিতে দিতে এবং তার জনপ্রিয় গান গাইতে গাইতে শ্মশানের দিকে অগ্রসর হন।
আসামের সংস্কৃতিতে নারীর মাধ্যমে দাহ কার্য সম্পন্ন হওয়ার ঐতিহ্য মেনে, তার দিদি পালমি বোরঠাকুরই চিতা জ্বালান। এই সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেক ভক্ত, অনেকে আবার ‘জুবিন নামরু’ ধ্বনি দিতে দিতে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান।
শ্মশানে উপস্থিত ভক্তরা জুবিন গার্গের গাওয়া ‘মায়াবিনী’ গানটি গাইতে থাকেন। কারণ জীবদ্দশায় তিনি নিজেই বলেছিলেন—“আমার মৃত্যু হলে এই গানটা যেন বাজে বা গাওয়া হয়।” সেই ইচ্ছেই পূর্ণ হলো তার শেষ যাত্রায়।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে কিছু মানুষের সন্দেহ থাকায় তার মরদেহে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ আবার স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তারপরই শ্মশান যাত্রা শুরু হয়।
আসাম মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করানোর পক্ষে ছিলাম না। তবে একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমার মতের চেয়ে জনগণের আবেগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা জনগণের দাবিতে দ্বিতীয়বার মরদেহ কাটা ও পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেই।”
তিনি আরও বলেন, “গুয়াহাটির ময়নাতদন্ত রিপোর্ট কখনোই সিঙ্গাপুরের মতো নিখুঁত হতে পারে না।”
গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে সমুদ্রস্নানের সময় জুবিনের মৃত্যু হয়। তিনি সেখানে গিয়েছিলেন ‘নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে’ অংশ নিতে। তিনি ১৭ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর পৌঁছান এবং মাত্র দুই দিনের মধ্যেই জীবনাবসান ঘটে। মৃত্যুকালে জুবিনের বয়স হয়েছিল মাত্র ৫২ বছর।


এস

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪