| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভারতের চাবাহারের কাছেই পাসনি বন্দর: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশাল প্রস্তাব পাকিস্তানের

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০৪, ২০২৫ ইং | ১৪:১৫:৩০:অপরাহ্ন  |  ১৪৪৭৩০০ বার পঠিত
ভারতের চাবাহারের কাছেই পাসনি বন্দর: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশাল প্রস্তাব পাকিস্তানের
ছবির ক্যাপশন: পাসনি বন্দর

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উন্নতির চেষ্টায় পাকিস্তান আরব সাগরের তীরে একটি নতুন বন্দর নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে প্রস্তাব পেশ করেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বেসামরিক বন্দরটি হবে বেলুচিস্তানের গওয়াদার জেলার পাসনি শহরে। কৌশলগতভাবে এটি ইরানে ভারতের তৈরি চাবাহার বন্দরের কাছাকাছি অবস্থিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের উপদেষ্টারা এই ১.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রস্তাব নিয়ে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাসনিতে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থগুলো ব্যবহারের সুবিধার্থে যুক্তরাষ্ট্র এই বন্দরে একটি টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনা করবে। বেলুচিস্তান প্রদেশের এই শহরটির অবস্থান আফগানিস্তান ও ইরানের সীমান্ত সংলগ্ন।

এই উদ্যোগটি এমন সময়ে এলো যখন পাকিস্তানি সেনাপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে গত সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে শরিফ ট্রাম্পের কাছে খনি ও জ্বালানি খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ চেয়েছিলেন। মুনির এই সফরের সময় ট্রাম্পকে পাকিস্তানের খনিজ সম্পদেরও ঝলক দেখিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, বৈঠকের পর মুনির ট্রাম্পকে বিরল মৃত্তিকা খনিজে ভরা একটি কাঠের বাক্স উপহার দিচ্ছেন। মুনিরের এই 'চার্ম অফেন্সিভ' এর মধ্যেই একটি মার্কিন ধাতু কোম্পানি প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিতে ব্যবহারের জন্য পাকিস্তানে কৌশলগত খনিজগুলো যৌথভাবে অনুসন্ধানের জন্য পাকিস্তানের সাথে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করে।

সাবেক জো বাইডেন প্রশাসন পাকিস্তানকে দূরে রাখলেও, দেশটি ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করছে। তারা মূলত সমস্যা-সংকুল বেলুচিস্তান অঞ্চলে থাকা তাদের বিশাল অব্যবহৃত তেল, গ্যাস এবং খনিজ সম্পদের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে মুনির ট্রাম্পের সাথে সরাসরি বন্দর চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন কিনা, তা জানা যায়নি।

এই নীল নকশা অনুযায়ী, বন্দরটি মার্কিন সামরিক উদ্দেশ্যে বা সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। এর বদলে, পাকিস্তান চায় যুক্তরাষ্ট্র যেন পাসনি বন্দরটিকে খনিজ সমৃদ্ধ পশ্চিমা প্রদেশগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করতে একটি রেল নেটওয়ার্কের জন্য অর্থায়ন করে। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুক্তি দিয়েছে যে পাসনির ইরান এবং মধ্য এশিয়ার কাছাকাছি অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের বিকল্প বাড়িয়ে তুলবে এবং আরব সাগর ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন প্রভাবকে প্রসারিত করবে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের গওয়াদার বন্দরও রয়েছে, যা চীনের অর্থায়নে নির্মিত এবং তাদের দ্বারাই পরিচালিত হয়। পাসনি গওয়াদার থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যদি যুক্তরাষ্ট্র পাসনি বন্দরে উন্নয়ন চুক্তিতে সম্মত হয়, তবে এই ভূ-রাজনৈতিক চাল পাকিস্তানকে কীভাবে সামলাতে হবে, তা দেখার বিষয়। এই প্রস্তাবিত বন্দরটি ভারতের চাবাহার থেকে মাত্র ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় ভারতও এর দিকে সতর্ক নজর রাখবে। চাবাহার বন্দর ভারতকে পাকিস্তানের বাইপাস করে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছাতে সাহায্য করবে। ২০২৪ সালে ভারত ও ইরান ১০ বছরের জন্য ওই বন্দরের শহীদ বেহেশতি টার্মিনাল পরিচালনা ও উন্নয়নের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

রিপোর্টার্স২৪ # এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪