রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ঘিরে ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিং আসল বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সাইকোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (বিআইএফপিএস)।
রাবি থিয়েটার অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (আরইউটিএএ) সভাপতি মো. হোসাইন মারুফের আবেদনের পর এই ফরেনসিক বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটি।
অভিযোগকারী রাহাত ইসলাম (হৃদয়) নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি।
ফরেনসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, রেকর্ডিংয়ে কোনো সম্পাদনা বা এআই-জনিত কণ্ঠের চিহ্ন নেই। ভয়েসের স্বাভাবিক প্যাটার্ন ও পিচ জিটার মানবকণ্ঠের সীমার মধ্যেই রয়েছে এবং ফাইলটি মোবাইলেই রেকর্ড করা হয়। রাহাতের সরবরাহ করা রেফারেন্স ভয়েসের সঙ্গে উচ্চমাত্রার মিলও পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মীর মেহবুব আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন। এক্সপার্টদের মাধ্যমে কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে, ১৫ সেপ্টেম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েও মৌখিক পরীক্ষায় স্থান পাননি রাহাত। তাঁর অভিযোগ, নিয়োগের আগে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। অর্থ না দেওয়ায় তাঁকে বাদ দেওয়া হয়।
২১ সেপ্টেম্বর তিনি উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এবং সেটি শিক্ষা উপদেষ্টা ও ইউজিসিতেও পাঠান। অভিযোগে বলা হয়, নিয়োগে অনিয়ম ও প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক মীর মেহবুব আলম বলেন, ‘এগুলো ভিত্তিহীন ও মনগড়া অভিযোগ। পরীক্ষা স্বচ্ছভাবেই হয়েছে। তিনি প্রথম ১০ জনের মধ্যেও ছিলেন না।’
অডিও নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘এখন তো এআই দিয়ে অনেক কিছু করা যায়।’
রিপোর্টার্স২৪/প্রীতিলতা