স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সরকারী কর্মকর্তারা জনসেবা করার সুযোগ পান উল্লেখ করে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেছেন, কর্তৃত্ব নয় ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে জনগণকে আপন করে নিতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের পর যতই উন্নয়নের কথা বলা হোক না কেন, সার্বিকভাবে মানসিকতায় পরিবর্তন না এলে সংকট থেকেই যাবে। শনিবার সিলেট জেলা প্রশাসনের কনফারেন্স রুমে সিলেট বিভাগের বর্তমান শিক্ষা ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানো প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট জেলা প্রশাসন এবং জালালাবাদ অফিসার্স এসোসিয়েশন যৌথভাবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. সৈয়দ মাসুম আহমেদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জালালাবাদ অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু নাসের খান। প্রশাসনের কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা পরিহারের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রদূত মুশফিক বলেন, কর্তৃত্বপরায়ণতা যেনো আমাদের গ্রাস না করে, পারস্পরিক সমঝোতা এবং সম্মানের একটি পরিবেশ যেনো তৈরি হয়। এই জিনিসটা আমাদের সমাজে খুব অভাব। এক শ্রেণী মনে করে আমি উপরতলার মানুষ, আর অন্য জন মনে করে আমার জন্মই হয়েছে যেনো মানুষকে সালাম দেয়ার জন্য - এই ব্যবধান এবং দ্বিধার জায়গা ভেঙে দিতে হবে।
সিলেটে অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি নিয়ে চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন যাবত সিলেটের কিছু কিছু বঞ্চনার কথা শুনছিলাম দেশের বাইরে বসে। আমার কর্মস্থল এখন দেশের বাইরে। ঢাকায় পৌছেই আমি এ বিষয় নিয়ে কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই এটার সমাধান নিয়ে চেষ্টা করছেন। যোগাযোগ উপদেষ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়নে তদারকি জোরদারের অঙ্গীকার করেছেন। সেই সঙ্গে রেলে নতুন বগি সংযোজনের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
বিমানের ভাড়া সহনীয়মাত্রায় রাখার কথাও বলেছেন।
পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ সময়ের দুঃশাসন দেশের উন্নয়নে স্থবিরতা তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মুশফিক। সেমিনারে উত্থাপিত প্রবন্ধে ড. সৈয়দ মাসুম বলেন, সিলেট বিভাগে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশ। উদ্বেগের বিষয় সুনামগঞ্জে এই সংখ্যাটা ৩৪.২৪ শতাংশ। বন্যায় ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বাধাগ্রস্থ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন- সিলেট বিভাগে গণিত, বিজ্ঞান এবং ইংরেজিতে দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। আর এই ঘাটতির রেশ দেখা গেছে এবারের উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে। সরকারী স্কুলগুলোতে ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত হচ্ছে ১: ১৮৫, অন্যদিক বেসরকারী স্কুলগুলোতে এটার অনুপাত আরও কম। জালালাবাদ অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সচিব আবু নাসের খান বলেন, সিলেট একসময় শিক্ষাদীক্ষায় বেশ সমৃদ্ধ ছিলো। কিন্তু আজ জালালাবাদ অঞ্চলে বিদ্যা-বুদ্ধি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা নেই বললেই চলে। এ অবস্থার উন্নতি জরুরি। আর এটা করতে হলে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ এবং বিশ্লেষণী দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মোঃ জাবের, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, জাতীয় বেতন কমিশনের সচিব ফরহাদ সিদ্দিকী এবং সিলেট বিভাগের কমিশনার খান মোঃ রেজাউন নবী প্রমুখ।
রিপোর্টার্স২৪/সোহাগ