রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সোমনাথ দে। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে জাতীয় পার্টি দিয়ে তার রাজনীতি শুরু। পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সংখ্যালঘু বিষয়ক উপদেষ্টা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ছিলেন। তারপর যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দেশবিরোধী চক্রান্তের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন সোমনাথ ও তার সহযোগী কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল।
জামিনে মুক্তি পেয়ে সোমবার সনাতন ধর্মের অনুসারীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন সোমনাথ ও কপিল। সোমনাথ দে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাবেক সভাপতি আর কপিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব। কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসেরও সক্রিয় সদস্য সোমনাথ।
সোমনাথ দে’র ভারতের নাগরিকত্ব রয়েছে। সেখানে বাড়ি-সম্পত্তি রয়েছে। কলকাতার অদূরে বারাসাতে তার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা যায়। বরাসাত ও কলকাতায় তার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও আছে। বছরের বেশিরভাগ সময় তিনি ভারতে থাকেন। তার স্ত্রীও ভারতে থাকেন বেশি সময়।
ভারতীয় রাজনৈতিক থেকে শুরু করে সেখানকার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো ( আইবি ) প্রধান তপন ডেকার সঙ্গে সোমনাথের রয়েছে ঘনিষ্ঠতা । আইবি’র বাংলাদেশেও কার্যক্রম রয়েছে। সোমনাথ বাংলাদেশে আইবি’র হয়ে কাজ করে থাকেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাগেরহাটের মোরলগঞ্জের বাসিন্দা সোমনাথ দে থাকেন ঢাকায়। জাতীয় পার্টি দিয়ে তার রাজনীতি শুরু। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে বাগেরহাট-৪ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচন করেন তিনি। তারপর ২০১৯ সালের শেষের দিকে জাতীয় পার্টি ত্যাগ করে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০২২ সালে গঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটিতে তিনি ৩ নং সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছিলেন। সোমনাথ বাংলাদেশ জাতীয় সমাজ সংস্কার সমিতির মহাসচিব। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খুবই প্রভাবশালী ছিলেন তিনি। তার ভয়ে তটস্থ ছিলেন নিজ এলাকার মানুষ। নিজেকে শেখ হেলাল উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে তদবির বাণিজ্য করে বেড়াতেন। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও এমপিদের সঙ্গে ছবি তুলে চাঁদাবাজি ও বদলি বাণিজ্য করতেন তিনি। গত ১৬ বছরে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদ বানিয়েছেন। নিজেকে পরিচয় দিতেন দানবীর হিসেবে।
আরও জানা গেছে, আওয়ামী সরকার পতনের পর নিজেকে রক্ষার জন্য দল থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর জামায়াত-বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পাঁয়তার শুরু করেন। এরই মধ্যে গত মার্চ মাসে দেশবিরোধী চক্রান্তের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন সোমনাথ দে ও তার সহযোগী কপিল। জেল থেকে বেরিয়ে জামায়াতে যোগদানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তারা। তারপর সর্বশেষ ২০ আগস্ট সনাতন ধর্মের অনুসারীদের নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন সোমনাথ ও কপিল। চিতলমারী উপজেলার গঙ্গাচন্না গ্রামের বাসিন্দা কপিল। তিনি শেখ হেলালের ঘনিষ্ট ছিলেন।
জানা গেছে, কপিল ও সোমনাথকে গ্রেপ্তারের পর তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে সন্দেহভাজন দেশি ও বিদেশি নাগরিকদের মোবাইল ফোন নম্বর, ছবি ও কথোপকথনের তথ্য-প্রমাণ পায় পুলিশ।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক মোরলগঞ্জের একাধিক বাসিন্দা বলেন, সোমনাথ হিন্দুদের নাম বিক্রি করে সুবিধা নিতেন। হিন্দু সংগঠনের নামেও চাঁদাবাজি করতেন। তার ভয়ে হিন্দুরাও প্রতিবাদ করতেন না। তিনি হিন্দুদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন।
তিনি মানুষকে বলতেন শারীরিক নানা জটিলতাসহ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি আওয়ামী লীগ ছেড়েছেন। এখন আবার বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এখন বিএনপির নাম ভেঙে চাঁদাবাজি করবেন। এটাই তার পেশা। তিনি সব দলের মধু খেয়ে সেজেছেন সাধু!
এ বিষয়ে সোমনাথ দে’র সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি