| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পাকিস্তানকে জল সংকটে ফেলতে কুনার নদীতে আফগানিস্তানের বাঁধ

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২৪, ২০২৫ ইং | ১১:২৩:৫১:পূর্বাহ্ন  |  ১৩৭৩৩০৫ বার পঠিত
পাকিস্তানকে জল সংকটে ফেলতে কুনার নদীতে আফগানিস্তানের বাঁধ
ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগৃহীত

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : আফগানিস্তান কুনার নদীর উপর বাঁধ তৈরি করে পাকিস্তানের জল আটকানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কাজ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা মৌলভি হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। তালেবানের ভারপ্রাপ্ত জলসম্পদ মন্ত্রী মোল্লা আব্দুল লতিফ মনসুর 'এক্স'-এ (আগের টুইটার) জানিয়েছেন যে "আফগানদের নিজেদের জল ব্যবহারের অধিকার আছে" এবং বাঁধ তৈরির কাজ দেশের কোম্পানিরাই করবে, কোনো বিদেশি কোম্পানি নয়।

পাকিস্তান অভিযোগ করেছে যে কাবুল তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান নামে একটি জঙ্গি গোষ্ঠীকে সাহায্য করছে। এই অভিযোগের পর থেকেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিতর্কিত সীমান্ত বা ডুরান্ড লাইন-এ অশান্তি বেড়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই তালেবান এই জল আটকানোর সিদ্ধান্ত নিল।

ভারতের কাছ থেকে পাকিস্তান যে ধরনের আঘাত পেয়েছিল, তালেবানের এই কাজ অনেকটা তেমনই। এর আগে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে পাকিস্তানের জল সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল।

কুনার নদী প্রায় ৫০০ কিলোমিটার লম্বা। এটি পাকিস্তানে শুরু হয়ে আফগানিস্তানে ঢোকে এবং তারপর আবার পাকিস্তানে ফেরে কাবুল নদীর সাথে মেশে। এই নদীটি পাকিস্তানে প্রবেশ করে সিন্ধু নদে মেশার আগে ওই অঞ্চলের চাষাবাদ, পানীয় জল ও বিদ্যুৎ তৈরির জন্য খুব জরুরি।

যদি আফগানিস্তান এই নদীর উপর বাঁধ তৈরি করে, তাহলে পাকিস্তান খুবই সমস্যায় পড়বে। কারণ ভারতের জল কমানোর পর এবার এই নদী থেকেও জল কমে যাবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, ভারতের সাথে পাকিস্তানের যেমন জল চুক্তি আছে, আফগানিস্তানের সাথে এই নদীর জল ভাগাভাগি করার কোনো চুক্তি নেই। ফলে আফগানিস্তানকে থামানোর কোনো সহজ পথ পাকিস্তানের হাতে নেই। এতে দু'দেশের মধ্যে আরও বড় ধরনের ঝগড়া ও গোলযোগ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতা দখলের পর থেকে তালেবান নিজেদের দেশের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে। তারা বাঁধ আর খাল তৈরি করছে, যাতে নিজেদের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। এর উদাহরণ হলো উত্তর আফগানিস্তানের বিতর্কিত কোশ টেপা খাল। এই খাল তৈরি হলে বিশাল শুষ্ক জমি চাষের উপযুক্ত হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে আম দরিয়া নদীর প্রায় ২১ শতাংশ জল কমে যেতে পারে, যা আগে থেকেই জলকষ্টে থাকা উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের মতো দেশগুলোর জন্য সমস্যা তৈরি করবে।

গত সপ্তাহে তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ভারত সফরে এসেছিলেন। সেখানে তিনি হেরাত প্রদেশে বাঁধ তৈরি এবং সেটির দেখাশোনার কাজে ভারতের সমর্থনের প্রশংসা করেন। ভারত ও আফগানিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দু'পক্ষই জলের সঠিক ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছে এবং আফগানিস্তানের বিদ্যুতের প্রয়োজন মেটাতে ও কৃষির উন্নয়নে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪