রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানকে ভিত্তি হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের স্বাক্ষরে একটি আদেশ জারি করতে হবে, যার অধীনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের পরই বাংলাদেশে নির্বাচন হবে, যা রিফর্ম অ্যাসেম্বলি’র মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এই রিফর্ম অ্যাসেম্বলি একই সঙ্গে দুটি কাজ করবে। একদিকে আদেশের বাস্তবায়ন, অন্যদিকে পার্লামেন্ট সচরাচর যে নিত্যনৈমিত্তিক কাজ করে থাকে তা পালন করবে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে অস্থায়ী কার্যালয়ে জুলাই সনদ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কমিশন একটি বাধ্যবাধকতা দিয়েছে। যদি ২৭০ দিনের মধ্যে প্রস্তাব বাস্তবায়ন না হয়, তবে এটি জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছা হিসেবে কার্যকর হবে। আমরা ঐকমত্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই, তারা কোনো দলের নয়, জনগণের ইচ্ছার প্রাধান্য দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, গণভোট নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক চলছে, তবে আমরা এতে অংশগ্রহণ করি না। এটি মূলত জামায়াত ও বিএনপির মধ্যকার মন্দযুদ্ধ, যা জনগণের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাটওয়ারী বলেন, গণঅভ্যুত্থানকে ভিত্তিমূল হিসেবে জুলাই সনদে আনা হবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জুলাই সনদের আদেশে স্বাক্ষর করার জন্য শহীদ মিনারে উপস্থিত হবেন, যাতে জনগণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত তাদের সামনে প্রকাশ পায়।
তিনি জানান, এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে অনড় অবস্থান রেখেছে। এই অবস্থানের ধারাবাহিকতায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা সুপারিশ করেছে।
১. প্রস্তাব-১ অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ গ্রহণ করতে হবে, যাতে আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হয়।
২. সংবিধান সংস্কার বিলের খসড়া দ্রুত প্রণয়ন ও জনগণের কাছে উন্মুক্ত করতে হবে।
৩. জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তিসম্পন্ন আদেশ গ্রহণের পর, সনদ স্বাক্ষরের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।
তিনি সতর্ক করেছেন, প্রস্তাব-২ বাস্তবায়ন না হলে পুরো সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া প্রস্তাব-১ এর কিছু ভাষাগত অস্পষ্টতা দূর করার প্রয়োজন, যেমন ৮(ক) ও ৮(ঘ) ধারায় গঠনমূলক ক্ষমতার প্রয়োগ এবং করিবে শব্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
পাটওয়ারী বলেন, গণভোটে প্রদত্ত সংবিধান সংস্কার বিলের খসড়া দ্রুত প্রণয়ন করে জনগণের নিকট উন্মুক্ত করতে হবে। সরকারকে প্রস্তাব-১ অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আইনগতভাবে স্থিতিশীল ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম