রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : জাতীয়করণের দাবিতে ১৭তম দিনে আন্দোলনকারী ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও জলকামান নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এই হামলায় সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ শিক্ষক আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ২টা ১০ মিনিটে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে মিছিল নিয়ে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা করলে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হন ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা। পরে আন্দোলনকারীরা সচিবালয়ের সামনে চলে এলে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ চালায়। এসময় জলকামানও ছোড়া হয়।
পুলিশ আন্দোলনরত শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার পর তারা পুনরায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পুলিশি হামলার প্রতিবাদ জানায়।
আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে সাতটি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে মারে।
আহত এক শিক্ষক তাসলিমা বলেন, আমরা তো রাজনৈতিক কারণে এখানে আসিনি। আমরা এসেছি আমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে। শিক্ষকদের ওপর আক্রমণ কখনোই কাম্য নয়। আমাদের অনেক শিক্ষক আহত হয়েছেন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে সচিবালয়ে যাচ্ছিলাম, আমাদের দাবি জানাতে। কিন্তু পুলিশ বাধা দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং কান-মুখে জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেমন দেশ যেখানে শিক্ষকদের ওপর হামলা করা হয়! মৃত্যু হলেও আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
জয়পুরহাট থেকে আসা শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, আমরা ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষাকে জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করছি। সরকার চাইলে আমাদের দাবি মেনে দিতে পারবে, কিন্তু তারা আটকে রাখছে। যদিও সরকার আগে ঘোষণা দিয়েছিল যে আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হবে, তবুও তারা সময় নষ্ট করছে।
এদিকে হামলার সংবাদ কভার করতে গেলে অপ্রত্যাশিতভাবে সেখানে উপস্থিত কালের কন্ঠের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার খন্দকার আসিফ গুরুতর আহত হন। তবে সাংবাদিক আহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম।
ভুখা মিছিলের নেতৃত্ব দেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোট আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শামসুল আলম, কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আল আমিন ও বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী মোখলেছুর রহমান। শিক্ষকদের উপর পুলিশের এই হামলাকে বর্বরোচিত বলে উল্লেখ করেছেন সবাই।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা। গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিবের সঙ্গে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠকের পর কোনো সমাধান না আসায় বুধবার তারা ভুখা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী মোখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবেন না। প্রেসক্লাবের সামনে তাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষকদের পাঁচ দফা দাবি হলো শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো—
১. অনুদানভুক্ত ও অনুদানবিহীন সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি সরকারের ঘোষিত পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক প্রেরিত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ১০৮৯টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করণের লক্ষ্যে যাচাই-বাছাইকৃত ফাইলসমূহ দ্রুত অনুমোদন করে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করতে হবে।
৩. স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অনুদানবিহীন সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা এমপিও আবেদনের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ব্যবস্থাকরণ করতে হবে।
৪. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসায় প্রাক-প্রাথমিক পদ সৃষ্টি করতে হবে।
৫. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিদপ্তরের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার জন্য আলাদা অধিদপ্তর স্থাপন করতে হবে।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে