রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ৩০০ আসনে প্রার্থী বাছাই প্রায় চূড়ান্ত উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে সম্ভাব্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী কিংবা বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে।’
রোববার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে প্রবাসে বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিটি নির্বাচনী আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিএনপির একাধিক যোগ্য এবং জনপ্রিয় প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি মানুষকে নিশ্চয়ই মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব নয়। এই বাস্তবতার কারণে হয়তো কিছু সংসদীয় আসনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী মনোনয়নবঞ্চিত হবেন। বিএনপির সর্বস্তরের নেতা–কর্মী, সমর্থকদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে আপনারা এই বাস্তবতাকে মেনে নেবেন।’
জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে কি না—এ নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও সন্দেহ গণতন্ত্রের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেছেন, শেষ পর্যন্ত কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তির কাছে বিনা শর্তে আত্মসমর্পণ করতে হতে পারে কি না, সে প্রশ্ন এখন বাস্তব আশঙ্কায় পরিণত হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘অতীতে স্বৈরাচারী শাসনামলে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনগণের কোনো আগ্রহ ছিল না। অথচ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও জনগণের মনে প্রশ্ন জাগছে—যথাসময়ে কি নির্বাচন হবে? এমন তো হওয়ার কথা ছিল না।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির বিজয় ঠেকাতে এখন থেকেই সংঘবদ্ধ অপপ্রচার ও অপকৌশল শুরু হয়েছে। তারেক রহমানের ভাষায়, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশেও আজ বিএনপির বিজয় রুখতে নানা ষড়যন্ত্র দৃশ্যমান হচ্ছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘দেশে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন শর্ত আরোপের মাধ্যমে গণতন্ত্রের উত্তরণের পথকে জটিল করে তোলা হচ্ছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, “জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই বিএনপিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।”
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারী আমলে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। গত ১৫ বছরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়েছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএনপি দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মুখে পড়েছে, কিন্তু গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার কারণেই দলটি টিকে আছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ সহনশীলতা দেখিয়েছি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেও যথাসাধ্য সহযোগিতা করে আসছি।’
মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘প্রতিটি আসনে বিএনপির একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন। তবে বাস্তবতার কারণে সবাইকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব নয়। যে সব প্রার্থী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আমাদের সহযোগী ছিলেন, প্রয়োজনে তাদেরও বিএনপি সমর্থন দেবে, বলেন তিনি।
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপত্তাহীন সমাজ কখনও সভ্য সমাজ হতে পারে না।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাহিদ হাসানসহ দলের অন্যান্য নেতারা।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব