| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইসরায়েলকে ছাড়লেই যুক্তরাষ্ট্রেকে পারস্পরিক সহযোগিতা করবে ইরান: খামেনি

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৪, ২০২৫ ইং | ০৪:০২:৪০:পূর্বাহ্ন  |  ১২৯৮২৭৫ বার পঠিত
ইসরায়েলকে ছাড়লেই যুক্তরাষ্ট্রেকে পারস্পরিক সহযোগিতা করবে ইরান: খামেনি
ছবির ক্যাপশন: ইসরায়েলকে ছাড়লেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ইরান: খামেনি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সতর্ক বার্তা দিয়েছেন—যদি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ না করে এবং মধ্যপ্রাচ্যে হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তবে তেহরান কখনোও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতায় আসবে না।

সোমবার (৩ নভেম্বর) তেহরানের এক ছাত্রসমাবেশে খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুরোপুরি ইসরায়েলি শাসনকে সমর্থন বন্ধ করে, এখানকার সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে হস্তক্ষেপ না করে, তখনই সহযোগিতা নিয়ে ভাবা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঔদ্ধত্যপূর্ণ স্বভাবকে শুধুমাত্র আত্মসমর্পণ ছাড়া অন্য কিছুই মেনে নেয় না। এ মন্তব্যটি তিনি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেন। সেই বিপ্লবে পশ্চিমা সমর্থিত তৎকালীন শাসক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল।

চলতি বছরের জুনে ইরানের ওপর নজিরবিহীন বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এই হামলার পর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সংঘাতে অংশগ্রহণ করে এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। সংঘাতের ফলে ইরানে ৯৩৫ জন ও ইসরায়েলে ২৪ জন নিহত হন।

পরে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এর ফলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান পারমাণবিক আলোচনাও ভেস্তে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় ২৪ জুন থেকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

খামেনি বলেন, যদি একটি দেশ শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং শত্রুরা বুঝতে পারে, সেই দেশের সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের কোনো লাভ নয়, বরং ক্ষতি হবে, তখনই দেশ নিরাপদ থাকবে। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক চুক্তি ত্যাগ ও নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে দেশটি তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির উদ্যোগে ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইরানের ওপর জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়।

গত রোববার আল জাজিরার সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, আমরা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী, তবে শুধুমাত্র পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা আমরা গ্রহণ করব না। যুক্তরাষ্ট্র যদি সমমর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রস্তুত হয়, তখনই আমরা আলোচনায় ফিরব। আমাদেরও তাড়াহুড়ো নেই।

বিশ্বের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির এই ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ইরানের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করছে যে, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থ ছাড়া কোন আলোচনাই সম্ভব নয়।


 রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪