রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের টানা ৮ম দিনের শুনানি বুধবার (৫ নভেম্বর) শুরু হয়েছে। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়।
আদালতে বিএনপির পক্ষে শুনানি করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, এবং রাষ্ট্রপক্ষে অংশগ্রহণ করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
শুনানি ২১ অক্টোবর শুরু হয়, এবং এর আগে ২২, ২৩, ২৮, ২৯ অক্টোবর ও ২ নভেম্বর ধারাবাহিকভাবে এটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আপিলের সূচনা হয় ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা আবেদনের পর।
আপিল ও রায়ের পেছনের প্রেক্ষাপট,১৯৯৬ সালে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয় ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট রিট খারিজ করে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বৈধ ঘোষণা করে।
এরপর সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় দেন। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ জাতীয় সংসদে পাস হয়।
রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন,সরকার পরিবর্তনের পর, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন এ রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। পরবর্তীতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেছেন।
এই শুনানি চলমান থাকায় দেশের রাজনীতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম