রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : চাচাকে বাবা বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ ওঠা সেই ইউএনও মো. কামাল হোসেনকে নাচোল উপজেলা থেকে সরানো হয়েছে। বুধবার (৫ নভেম্বর) তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে যোগ দিতে আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ টেস্টের সিদ্ধান্ত নেওয়ার একদিন পর নাচোলের এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রত্যাহার করা হল। ‘জনস্বার্থে’ কামালকে ওএসডি করা বিষয়ক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অবিলম্বে এটি কার্যকর হবে।
আগের দিন মঙ্গলবার মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে কামাল হোসেন, তার পিতা-মাতা এবং চাচা-চাচির ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।
দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি ও চাকরি লাভের উদ্দেশ্যে জন্মদাতা পিতা-মাতার পরিবর্তে আপন চাচা-চাচিকে পিতা-মাতা হিসেবে দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে চরম প্রতারণা করেছেন কামাল হোসেন। এই মিথ্যা পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ লাভ করেন।”
দুদক ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর এ মামলা করার সময় কামাল হোসেন নওগাঁর আত্রাইয়ের ইউএনও ছিলেন। বর্তমানে তিনি নাচোলের ইউএনও। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায়।
ডিএনএর বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক বলেন, মামলার তদন্তকালে প্রকৃত পিতা-মাতার পরিচয় নির্ধারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। দুদক সেই আবেদন বিবেচনা করে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে আসামি কামাল হোসেন, তার প্রকৃত পিতা-মাতা এবং চাচা-চাচীর ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, কামাল হোসেনের প্রকৃত পিতা আবুল কাশেম ও মা হাবীয়া খাতুন। কিন্তু তিনি কাগজপত্রে তার চাচা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসান হাবীব এবং চাচি সানোয়ারা খাতুনকে ‘পিতা-মাতা হিসেবে দেখিয়ে’ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
“তিনি এসএসসি, এইচএসসি ও উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সব সনদে চাচা-চাচির নাম ব্যবহার করেছেন। এমনকি জন্ম সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রেও তাদের নাম বসিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, চাকরি পাওয়া এবং অন্যান্য সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে এই প্রতারণা করেছেন তিনি।”
এজাহারে বলা হয়, “নবম শ্রেণি থেকে তিনি রেজিস্ট্রেশনে চাচাকে পিতা ও চাচিকে মাতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। ধাপে ধাপে জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পান।”
রিপোর্টার্স২৪/আরকে