রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে চলমান বিতর্কে নতুন করে ঝড় তুললেন সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদ। সতীর্থ জাহানারা আলমের অভিযোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনিও নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।‘ব্যাড টাচ’এবং দলের ভেতরের অস্বস্তিকর পরিবেশ নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রুমানা বলেন, মঞ্জু ভাই টাচ করে কথা বলা পছন্দ করতেন। ইনফ্যাক্ট শোল্ডার ধরত, পেছন থেকে এসে দুই হাতে ধরে কথা বলত। কোনটা গুড টাচ, কোনটা ব্যাড টাচ এইটুকুনি বোঝার মতো ক্ষমতা মেয়েদের অবশ্যই আছে।
জাহানারার সাম্প্রতিক কান্নাভেজা সাক্ষাৎকার দেখে নিজের মধ্যেও ‘অপরাধবোধ’ তৈরি হয়েছে বলে জানান রুমানা। তার ভাষায়, ‘আমি ২০২৩ সাল থেকেই বলে আসছি, টিমের মধ্যে এ রকম কিছু একটা ঘটতে চলেছে, এবং ঘটছে। একজন মেয়ে এভাবে কান্নাকাটি করে অভিযোগ করা কোনো হালকা ব্যাপার না।’
রুমানা আরও জানান, জিম্বাবুয়ে সফরের পর জাহানারা বিসিবিতে একটি ছয় পৃষ্ঠার বিস্তারিত অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগের কোনো সুরাহা হয়নি। বরং উল্টোভাবে সেটি জাহানারার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা হয়।
তিনি বলেন, ‘ওই অভিযোগের পর উল্টো ওর (জাহানারার) বিপক্ষে তা ব্যবহার হয়। অভিযোগপত্র ফেরত দেওয়া হয়, উল্টো নানা ইস্যুতে তাকে জড়ানো হয়।’
রুমানার দাবি, এসব বিষয়ে বিসিবিকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ‘আমাদের সিইও-র কাছেও এসব জানানো হয়েছিল। কিন্তু সঠিক তদন্ত হয়নি। মিডিয়া জানত, দেশের সবাই জানত কিন্তু বিসিবি জানত না, এটা হতে পারে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যেই নয়, মঞ্জুরুল ইসলামকে ঘিরে দলের অফিসিয়ালদের মাঝেও ‘ভীতির পরিবেশ’ তৈরি হয়েছিল। রুমানা বলেন, তিনি এমন আচরণ করতেন যেন আমরা গরু-ছাগল। মাঠের বাইরে, ভেতরে সব জায়গায় একটা ভয় কাজ করত।
নিজের দল থেকে বাদ পড়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাবেক অধিনায়ক। তার ভাষায়, মঞ্জু ভাই বলেছিলেন আমার পারফরম্যান্স ঠিক আছে, কিন্তু অজুহাত দেওয়া হলো ফিটনেস। একজন পারফর্মার কী করে আনফিট হয়? আমাকে ইচ্ছাকৃতভাবে কালার করে বাদ দেওয়া হয়েছে। টানা চার বছর অধিনায়ক ছিলাম, একটু মূল্যায়ন পাওয়ার কথা ছিল।
শেষে তিনি বিসিবির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাহানারা বলেছে, আমি বলেছি। এগুলো শোনার সময় এসেছে। আমরা সিনিয়ররা না বললে জুনিয়ররা চিরদিন চুপ থাকবে। এই বিষয়গুলো এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব দেখছে। বোর্ড যদি আগেই ব্যবস্থা নিত, আজ এতদূর যেত না।
বাংলাদেশ ২০১৭ ও ২০২১ সালেও এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করে। আরও একবার সফলভাবে এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে চায় আর্চারি ফেডারেশন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম