চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের আলটিমেটাম দিয়ে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। দাবি পূরণ না হলে আগামী শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও জরুরি বিভাগে শাটডাউন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় চমেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে ‘ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন’-এর ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা হাসপাতালের পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেন এবং দাবি বাস্তবায়নে শুক্রবার রাত পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকটি বিভাগে নতুন পদায়ন বন্ধ, উপজেলা পর্যায়ে দুই বছর বাধ্যতামূলক সেবা এবং মাত্র এক হাজার ট্রেইনি চিকিৎসকের জন্য মেধাভিত্তিক সীমিত ভাতার বিধান রাখা হয়েছে। তাদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক ও বাস্তবতাবিবর্জিত।
মানববন্ধনে চমেক ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাকিব হোসেন বলেন, ‘আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়া হলে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে। অন্যথায় শনিবার থেকে দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হবে।’
সংগঠনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— গত ১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশনা জারি, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের সমপর্যায়ে উন্নীত করা।
এ ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রণয়ন, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, ‘বিএমডিসি আইন-২০২৫’কে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর, ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিএমডিসি ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ভর্তি পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
মানববন্ধনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জামান মোহাম্মদ নুরশাদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মীর মুহাম্মদ ওমাইর, ইন্টার্ন কল্যাণ সম্পাদক নুসাইবা নুরাইনসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।