রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের জন্য প্রণীত গণমাধ্যম নীতিমালা সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। রোববার (৯ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন।
বৈঠক শেষে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) চেয়ারম্যান রেজায়োনুল হক রাজা সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচন কমিশনের তৈরি গণমাধ্যম আচরণবিধির কিছু বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। আমরা বিজেসি ও রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) যৌথভাবে একাধিক সেমিনার করেছি, যেখানে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, অংশীজন ও সংবাদকর্মীদের মতামত নিয়ে একটি সুপারিশমালা তৈরি করেছি। সেই সুপারিশমালা আজ নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছি।
রেজায়োনুল হক রাজা বলেন, বৈঠকে ইসির সিনিয়র সচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা সাংবাদিকদের প্রস্তাবগুলো পুনঃবিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর প্রিসাইডিং অফিসারকে অবহিত করার যে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে, সেটি সাংবাদিকদের জন্য অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা। যদি আমাদের আইডি কার্ড ইস্যু করা থাকে, তাহলে আলাদা করে অনুমতি চাওয়ার প্রয়োজন নেই। কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট থাকার সীমা নিয়েও আমরা আপত্তি জানিয়েছি।
এই প্রেক্ষাপটে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনও কঠোর সময়সীমা নয়, বরং কেন্দ্রের জায়গার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় একটি সাধারণ নির্দেশনা মাত্র। সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা সীমিত করার উদ্দেশ্যে এই ধারা নয় বলেও তারা জানিয়েছেন।
রেজায়োনুল হক রাজা বলেন, আমরা আশ্বস্ত যে কমিশন আন্তরিকভাবে সাংবাদিকদের সহযোগিতা করতে চায়। এমনকি তারা নিজেরাও মনে করে, সিসি ক্যামেরা না থাকলেও সাংবাদিকদের ক্যামেরা থাকলে ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
তিনি আরও জানান, বৈঠকে সরাসরি সম্প্রচার নিয়েও আলোচনা হয়। আমরা বলেছি, সাংবাদিকদের উচিত দায়িত্বশীল থাকা, যেন সম্প্রচারে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনও বিঘ্ন না ঘটে। তবে যদি অনিয়ম বা কেন্দ্র দখলের ঘটনা ঘটে, তখন সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালন করতেই হবে। এমন পরিস্থিতিতে কঠোর নীতিমালা কার্যকর রাখা সম্ভব নয়।
বৈঠকে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) সভাপতি কাজী জেবেল বলেন, আমরা প্রস্তাব করেছি, সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির বিষয়টি নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সাংবাদিক বা ক্যামেরাপারসনের ওপর আক্রমণ হলে তার বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া নীতিমালায় থাকতে হবে।
রেজায়োনুল হক রাজা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন দ্রুত তাদের সুপারিশগুলো বিবেচনা করে নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনবে। এতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে এবং জনগণের জানার অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে