রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করে হত্যাচেষ্টাসহ দুজনকে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ পঞ্চম দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজন কর্মকর্তা।
সোমবার (১০ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে সাক্ষীরা জবানবন্দি দিচ্ছেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আজ দুইজন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের কথা রয়েছে। গত ৪ নভেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্য দেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম কিবরিয়া খান ও তদন্ত সংস্থার সহকারী লাইব্রেরিয়ান কনস্টেবল আবু বকর সিদ্দিক। তাদের জেরা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন এবং গ্রেপ্তার আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে আইনজীবী সারওয়ার জাহান। এখন পর্যন্ত ছয়জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, সঙ্গে রয়েছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সাইমুম রেজা তালুকদার ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান।
এর আগে ৩ নভেম্বর তৃতীয় ও চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে শহীদ নাদিম মিজানের স্ত্রী তাবাসসুম আক্তার নিহা ও প্রত্যক্ষদর্শী মো. ইয়াকুব সাক্ষ্য দেন। তারা ট্রাইব্যুনালের সামনে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরার বনশ্রী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘নৃশংস হামলার’ বিবরণ তুলে ধরে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
২৭ অক্টোবর দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে গুলিবিদ্ধ বাসিত খান মুসার বাবা মো. মোস্তাফিজুর রহমান হৃদয়বিদারক বর্ণনা দেন। তিনি জানান, ওইদিন পুলিশের গুলিতে তার স্ত্রী মায়া ইসলাম নিহত হন এবং একমাত্র ছেলে মুসা গুরুতর আহত হয়। এখনও কথা বলতে পারে না ছয় বছরের শিশু মুসা।
২৩ অক্টোবর প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হওয়া আমির হোসেন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি রামপুরা ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। অন্য আসামিরা হলেন খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া—যারা বর্তমানে পলাতক।
গত ১০ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। ১ সেপ্টেম্বর পলাতক চারজনের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে গণঅভ্যুত্থানের সময় বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কে পুলিশের গুলিতে নিহত হন নাদিম ও মায়া ইসলাম। একই ঘটনায় আহত হন শিশু বাসিত খান মুসা। অন্যদিকে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে আশ্রয় নেওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি ছোড়ে পুলিশ—যার তিনটি তার শরীরে লাগে। প্রাণে বেঁচে ফিরলেও এখনও আঘাতের দাগ বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।
গত ২৬ জানুয়ারি রাতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে এ মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে আসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম