রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রশ্নে আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২০ নভেম্বর।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে টানা দশ দিন শুনানি শেষে এ দিন ধার্য করেন আদালত।
এর আগে গত ৬ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শেষ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি আদালতে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় সমাজে এমনভাবে কুঠারাঘাত করেছে, যা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে এবং সমাজব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে। মৃত ব্যক্তি এসে রাতের ভোট দেয়ার মতো অস্বাভাবিক ঘটনারও জন্ম দিয়েছে এ প্রক্রিয়া।
গত বছরের ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেয় আদালত। পরে ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি পৃথকভাবে আপিল দায়ের করেন।
২১ অক্টোবর শুরু হওয়া শুনানি টানা কয়েক দফায় ২২, ২৩, ২৮, ২৯ অক্টোবর এবং ২, ৪, ৫, ৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলেছে।
১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৯৮ সালে এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট এম সলিমউল্লাহসহ তিন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দিয়ে এ ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে।
তবে ২০০৫ সালে আপিলের পর ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।
সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (১৬ অক্টোবর) এবং জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার (২৩ অক্টোবর) পৃথক আবেদন করেন।
আদালতের ধার্য করা তারিখ অনুযায়ী, এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ২০ নভেম্বর।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম/এসসি