রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : অনেকটা নীরবেই চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ কনটেইনার হ্যান্ডলিং ৬০ শতাংশ তুলে দেয়া হল বিদেশি অপারেটরদের হাতে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ডেনমার্কের মালিকানাধীন এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে লালদিয়া টার্মিনালের ৩৩ বছর মেয়াদি এবং সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএর সঙ্গে পানগাঁও নৌ টার্মিনালের ২২ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় চুক্তির শর্তাবলি ‘গোপনীয়তার’ মধ্যে রেখেই গতকাল সোমবার ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল পরিচালনার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই চুক্তির প্রক্রিয়া, বিশেষ করে লালদিয়া টার্মিনালের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরামর্শক সংস্থা আইএফসি কর্তৃক ৬২ দিনের জন্য প্রস্তাবিত প্রক্রিয়া মাত্র দুই সপ্তাহে শেষ করায় প্রশ্ন তুলেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, বাম জোট এবং ইসলামপন্থী দলগুলো।
জানা যায়, লালদিয়া চরে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য এপিএম টার্মিনালসের প্রস্তাব ৪ নভেম্বর দাখিল করা হয়। এরপর ৫ নভেম্বর কারিগরি এবং ৬ নভেম্বর আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন করা হয়। এমনকি ৭ ও ৮ নভেম্বর সরকারি ছুটির দিনেও দর-কষাকষি চলে বলে অভিযোগ উঠেছে। ৯ নভেম্বর বন্দর বোর্ড সভার অনুমোদন পাওয়ার পর ১০-১১ নভেম্বর নৌপরিবহন ও আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন হয়।
এরপর ১২ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ এবং ১৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে লেটার অব অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। লেটার অব অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার পর সাধারণত দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হলেও মাত্র এক দিনের কম সময়ের ব্যবধানে গতকাল এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
বন্দরের বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বলছেন, চুক্তির কোনো শর্ত দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত না করলে পরে বড় ধরনের খেসারত দিতে হতে পারে, যার উদাহরণ দক্ষিণ আফ্রিকার জিবুতিতে রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হলে চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে চালু থাকা চারটি কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রমও বিদেশি অপারেটরদের দ্বারা পরিচালিত হবে।
এর মধ্যে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল গত বছর থেকেই সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের হাতে রয়েছে।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বর্তমানে নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত ড্রাইডক পরিচালনা করলেও ডিসেম্বরের মধ্যে এটি আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বে-টার্মিনাল প্রকল্পের একটি অংশ ডিপি ওয়ার্ল্ড ও অন্য অংশ সিঙ্গাপুরের পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের কাছে যাওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়ে আছে। ফলে বিদ্যমান জেনারেল কার্গো বার্থ-জিসিবি ও চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল-সিসিটি ব্যতীত বন্দরের বেশির ভাগ কনটেইনার হ্যান্ডলিং অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ কনটেইনার বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন