রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : মধ্যরাতে ডিবি পুলিশ ভোরের কাগজের অনলাইন সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহেলকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে। এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।
তিনি বলেন, বুধবার মধ্যরাতে গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে একদল ব্যক্তি দৈনিক ভোরের কাগজ-এর অনলাইন সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহেলকে বাড্ডার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার সত্যতা জানতে কিছুক্ষণ আগে আমি ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলেছি।
তিনি সত্যতা স্বীকার করে জানালেন, তাঁদের এখানেই আনা হয়েছে। কেন রাত ১২টার পর একজন গণমাধ্যমকর্মীকে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে সেটা জানতে চাইলে তিনি বললেন— সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মিজানুর রহমান সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে ডিবি কার্যালয় আনা হয়েছে।
জুলকারনাইন সায়ের জানান, মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় আশরাফুল নামের জনৈক পুলিশ সদস্য সোহেলের স্ত্রীকে জানান 'ডিবি প্রধান তার সাথে কথা বলতে চান, কথা শেষ হলে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে'। তবে রাত ১২টার পর কেন ডিবি প্রধান একজন সাংবাদিককে তাঁর বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে কথা বলতে আগ্রহী সে বিষয়ে কিছুটা ধারণা পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি নেদারল্যান্ডের নাগরিক এবং বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব অবৈধ মোবাইল ব্যবহার বন্ধে এনইআইআর প্রযুক্তি চালু করার জন্য বিটিআরসির সঙ্গে চুক্তিবন্ধ হয়েছিলো। এতে বিপাকে পড়ে সাধারণ মোবাইল বিক্রয়কারীরা। এ বিষয়ে তারা বুধবার (১৯ নভেম্বর) রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। আর এই আয়োজনে জনমচেতনতা বাড়াতে মোবাইল ব্যবসায়ীদের নানা রকম পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেল। তাকে আটকের পর ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই সংবাদ সম্মেলন বানচাল করতে এবং ব্যবসায়ীদের ভয় দেখাতে, ফয়েজ তৈয়ব এর ইশারায় এমন করা হচ্ছে।
সায়ের লিখেছেন, পুলিশকে ব্যবহার করে এভাবে মধ্যরাতে একজন সাংবাদিককে হেনস্থার নিন্দা জানাই। ফয়েজ যদি আসলেও এই ঘটনার পেছনে কলকাঠি নেড়ে থাকে তাহলে সকল গণমাধ্যমকর্মীর বিবেচনা করা উচিত, তারা এই বিদেশী বিশেষ সহকারীর কার্যক্রম তার বাকী দিনগুলোতে কভার করবে কিনা।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন