রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর ছোট-বড় সব মোবাইল মার্কেট বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে বসুন্ধরা সিটি মোবাইল মার্কেট, মোতালেব প্লাজা ও স্টার্ন প্লাজার মতো বড় বাজারে ভিড় থাকলেও প্রবেশমুখেই ক্রেতারা জানতে পারেন, দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে। নতুন ফোন কেনা, সার্ভিসিং কিংবা রিপেয়ারিং কোনো সেবাই না পেয়ে অনেকে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
বুধবার(১৯ নভেম্বর) বিকেলে বসুন্ধরা সিটির মূল ফটকে দেখা যায়, ‘মোবাইল সিটি’ মার্কেট বন্ধ থাকায় শতশত ক্রেতা হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কবে মার্কেট খুলবে এ নিয়েও নিশ্চিত তথ্য নেই কারও কাছে।
আজিমপুর থেকে আসা সাবিহা শারমিন বলেন, ‘ফোন কিনতে এসেছিলাম। পুরো বসুন্ধরা সিটি খোলা, কিন্তু মোবাইল মার্কেটই বন্ধ। কিছুই বুঝতে পারছি না।’
সারা দেশে মোবাইল ব্যবসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আসে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)–এর সংবাদ সম্মেলন থেকে। আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এনইআইআর বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তারা ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়।
এর আগে গত রাতে এমবিসিবির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ পিয়াস ও সাংবাদিক মিজানুর রহমানকে ডিবি পুলিশ বাসা থেকে নিয়ে যায়। প্রতিবাদে সকাল থেকে বহু ব্যবসায়ী ডিবি কার্যালয় ঘেরাও করেন। মিজানুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হলেও আবু সাঈদ পিয়াস এখনও ডিবির হেফাজতে আছেন।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, কোনো কারণ ছাড়াই নেতাদের তুলে নেওয়া হয়েছে। একজন বিক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘২০–২৫ হাজার ব্যবসায়ীকে পথে বসিয়ে কী বোঝাতে চাইছে? আলোচনায় বসলে সমাধান সম্ভব।’
ব্যবসায়ীরা জানান, এনইআইআর চালু হলে ফোনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মুঠোফোন বিক্রেতা সাইম প্লাসের স্বত্বাধিকারী মো. কামাল হোসেন বলেন, লাগেজ ফোনে ৫৭% কর বসানো হলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। এতে অবৈধ উপায়ে ফোন আনার প্রবণতা বাড়বে, সরকার রাজস্ব হারাবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে সংযোজন করা ফোন সব ব্র্যান্ডের চাহিদা পূরণ করতে পারে না। লাগেজ ফোন বিক্রেতারা খুব সামান্য লাভে ব্যবসা চালান। উচ্চ কর ব্যবসায় ধস নামাতে পারে।
১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর চালু
অনিবন্ধিত, চুরি হওয়া বা অনুমোদনহীন মোবাইল ব্যবহারে বাধা দিতে সরকার ১৬ ডিসেম্বর থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) চালুর ঘোষণা দিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি