রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে একটি নতুন গোপন শান্তি প্রস্তাব তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে কিয়েভকে নিজস্ব ভূখণ্ড ছাড়তে হবে। একই সঙ্গে সামরিক সক্ষমতা কমাতে হবে; এমন শর্তও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে খসড়া প্রস্তাবে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে এই প্রস্তাব মেনে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পরোক্ষ ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে পরামর্শ করেই যুক্তরাষ্ট্র এই খসড়া পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ফ্লোরিডার মিয়ামিতে ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব রুস্তেম উমেরভের সঙ্গে বৈঠকে ২৮ দফার এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
যদিও রাশিয়া বলেছে,নতুন কোনো শান্তি পরিকল্পনার বিষয়ে তারা জানে না।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, খসড়া পরিকল্পনাটি মূলত রাশিয়ার স্বার্থকেই এগিয়ে নিচ্ছে। এটি পুতিনের জন্য বড় ধরনের সুবিধা বয়ে আনবে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারাও বলছেন, রাশিয়ার দাবি–দাওয়ার সঙ্গেই খসড়া পরিকল্পনার ধারা প্রায় মিল রয়েছে। বড় পরিবর্তন ছাড়া এ নিয়ে আলোচনা শুরুরও কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধ থামাতে ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। টেলিগ্রামে তিনি লেখেন, ‘রক্তপাত বন্ধে সব অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে, যেন মার্কিন নেতৃত্ব শক্তিশালী ও সক্রিয় থাকে।’
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবে ইউক্রেনকে দনবাসের পূর্বাঞ্চলের বাকি অংশ রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু এলাকাও রয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর আকার অর্ধেকে নামিয়ে আনার শর্তও রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ধরনের অস্ত্র ত্যাগ করার শর্তও রয়েছে প্রস্তাবে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে পুনরায় সামরিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
খসড়া প্রস্তাবে ইউক্রেনে রুশ ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং রুশ অর্থোডক্স চার্চের ইউক্রেনীয় শাখাকে সরকারি মর্যাদা দেওয়ার মতো শর্তও যোগ করা হয়েছে।
রাশিয়া জানিয়েছে,যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ চলমান থাকলেও যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তি নিয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি নেই। আল–জাজিরা
রিপোর্টার্স২৪/এসসি