রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশ মূলত ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে প্লেটগুলোর নড়াচড়ার ফলে মাটির নিচে ডাউকি, মধুপুর ও সিলেট ফল্টের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ফাটল বা ‘ফল্ট লাইন’ তৈরি হয়েছে। ভূতাত্ত্বিকরা সতর্ক করেছেন, এর মধ্যে টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্ট বর্তমানে ভূমিকম্পের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত।
গবেষণায় দেখা গেছে, মধুপুর ফল্টে প্রায় ৪০০ বছর ধরে ভূ-অভ্যন্তরে প্রচুর চাপ জমা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই সঞ্চিত শক্তি যেকোনো সময় মুক্ত হলে রিখটার স্কেলে ৭ থেকে ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প হতে পারে।
রাজধানী ঢাকা ফল্ট লাইন থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। বিভিন্ন গবেষণার বরাতে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও ঢাকার অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ৪০–৬৫ শতাংশ ভবন ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
২০০৭ সালে মধুপুর ফল্টে ভূমিকম্প মাত্রা নিরূপণের জন্য সিসমোগ্রাফ মেশিন স্থাপন করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে এটি নেই, ফলে সঠিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে না। গত শুক্রবার নরসিংদী থেকে শুরু হওয়া ভূমিকম্পের পর মধুপুরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, সচেতনতা ও প্রস্তুতি থাকলে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তিনি আরও বলেন, টাঙ্গাইল একটি উদীয়মান শহর হলেও নতুন ভবনগুলো পরিকল্পিতভাবে নির্মিত হচ্ছে না, এবং পৌরসভা এসব ভবনের মান যাচাই করছে কি না তাও প্রশ্নের মধ্যে।
এমবিএসটিইউ-এর পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ জানিয়েছেন, প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। মধুপুরের নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক ডিভাইস আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উল্লেখযোগ্য, ২০১২ সালে মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়নের বোকারবাইদ গ্রামে প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছিল। ওই ফাটলের ব্যাস ছিল ৫–৬ ইঞ্চি এবং গভীরতা প্রায় ২৫–২৬ ফুট। মধুপুর ফল্ট এবং আশপাশের অঞ্চল শুধুমাত্র স্থানীয় নয়, পুরো দেশের জন্য ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি করছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম