রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের চাপ দ্রুত কমিয়ে দিচ্ছে দেশের কৃষিজমি, মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। কর্মশালাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাগ্রোইকোলজি প্ল্যাটফর্ম।
ফরিদা আখতার বলেন, কৃষি এখনো দেশের জিডিপিতে ১১ শতাংশ অবদান রাখে এবং অধিকাংশ গ্রামীণ মানুষের প্রধান জীবিকা। কিন্তু নগর সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন, রাসায়নিকভিত্তিক কৃষি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে কৃষিজমি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। প্রতিবছর প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি বিভিন্ন কারণে নষ্ট বা ব্যবহারবহির্ভূত হয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, শুধু জমির পরিমাণই কমছে না রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও অতিরিক্ত হার্বিসাইড ব্যবহারে জমির উর্বরতাও নষ্ট হচ্ছে। এতে সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন রোগবালাই ও পোকামাকড়ের বিস্তার বাড়ছে।
উপদেষ্টা আরও জানান, কৃষিতে এক সময় একই জমিতে একাধিক ফসল ফলানো সম্ভব হতো, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে কমে গেছে। অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতও ক্ষতির মুখে পড়ছে। উন্মুক্ত জলাশয় দূষণ, ভরাট এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন মাছের প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় মাছের বৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলছে।
অনুষ্ঠানে উবিনীগ-এর পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জনির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি মো. বদরুল আলম। বক্তারা কৃষিজমি সুরক্ষায় সরকারের প্রস্তাবিত আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন এবং ভূমি দখল, বেসরকারিকরণ ও জলবায়ু ক্ষতির বিষয়ে সতর্ক করেন।
কর্মশালায় কৃষি, ভূমি, পরিবেশ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল অংশীজন অংশ নেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি