রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে প্লট বরাদ্দ দুর্নীতি মামলার রায় আগামী ১ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানাসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলাকে ‘সাজানো, অন্যায্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন যুক্তরাজ্যের পাঁচজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী।
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আইনজীবীরা লিখেছেন, টিউলিপ সিদ্দিক এই মামলায় ন্যূনতম আইনি অধিকারও পাননি। অভিযোগের বিষয়ে তাকে পূর্বে অবহিত করা হয়নি এবং তাঁর পক্ষে পূর্ণ আইনি প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগও সীমিত করা হয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
আইনজীবী দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন চেরি ব্লেয়ার কে সি, ফিলিপ স্যান্ডস কে সি ও জিওফ্রে রবার্টসন কে সি। তাদের দাবি, টিউলিপ যে আইনজীবীকে নিয়োগ করেছিলেন, তাকেও গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং তার মেয়েকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তারা বলেছেন, গত আগস্টে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর টিউলিপ, তার মা, ভাই ও বোনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দুর্নীতির মামলা করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বাচলে তার মায়ের জন্য প্লট বরাদ্দ নিতে শেখ হাসিনার প্রভাব ব্যবহার করেছিলেন টিউলিপ। তবে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আইনজীবীরা বলেছেন, একজন ব্রিটিশ নাগরিক ও নির্বাচিত এমপি হিসেবে শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়া টিউলিপকে বাংলাদেশের হাতে প্রত্যার্পণ করা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তারা আরও উল্লেখ করেন, টিউলিপ পলাতক নন এবং স্বাভাবিক আইনি লড়াইয়ের অধিকার তার রয়েছে।
উল্লেখ্য, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর যুক্তরাজ্যে ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত জানুয়ারিতে মন্ত্রিত্ব ছাড়েন টিউলিপ সিদ্দিক। পদ ছাড়ার সময় তিনি জানান, সরকারের কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে চান বলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে