রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: থাইল্যান্ডে গত তিন শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বৃষ্টিপাত দেখা দিয়েছে দক্ষিণাঞ্চলে। টানা বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে।
দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, গত সপ্তাহে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের ১০টি প্রদেশে ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তী হাট ইয়ে শহরে একদিনে রেকর্ড করা হয় ৩৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি যা গত ৩০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যে দেখা যায় রাস্তাজুড়ে ডুবে থাকা গাড়ি, পানিতে তলিয়ে যাওয়া বাড়িঘর এবং ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে সাহায্যের অপেক্ষায় মানুষজন। এখন পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের ২০ লাখেরও বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মাত্র ১৩ হাজারকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
রয়টার্স জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ত্রাণ বিতরণ, খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তবে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধারকাজ আরও জটিল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সেনাবাহিনী সামরিক জাহাজ, হেলিকপ্টার, নৌকা ও হাই-ক্লিয়ারেন্স ট্রাক মোতায়েন করেছে।
থাই সামরিক বাহিনী জানায়, একটি বিমানবাহী রণতরী ও ১৪টি নৌযানের ফ্লোটিলা প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার মানুষকে খাবার সরবরাহ করতে সক্ষম। প্রয়োজন হলে রণতরীর ভেতর থাকা মেডিকেল ইউনিটকে ‘ভাসমান হাসপাতাল’ হিসেবেও ব্যবহার করা হবে।
সোংখলা প্রদেশের গভর্নর জানান, হাট ইয়ের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে মানুষকে সরিয়ে নিতে জেট স্কি, নৌযান ও উদ্ধারযান কাজে লাগানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডের মন্ত্রিসভা সোংখলা অঞ্চলকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে জরুরি তহবিল অনুমোদন করেছে।
সূত্র: বিবিসি
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম