রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ যে চিঠি পাঠিয়েছে, তা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বুধবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, হ্যাঁ, আমরা অনুরোধটি পেয়েছি এবং তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে চিঠির জবাব দেবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি তিনি। জয়সওয়াল বলেন, চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশসহ অঞ্চলের শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ বিষয়ে সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে গঠনমূলক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, দিল্লিতে পাঠানো নোট ভারবালের কোনো জবাব এখনও পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, কোনো উত্তর আসে নাই। এখন কোনো চিঠির উত্তর আশাও করি না। আগের চিঠিরও উত্তর পাই নাই। কাজেই এক সপ্তাহের মধ্যে উত্তর দিয়ে দেবে, এটা প্রত্যাশা করি না। তবে আমরা আশা করি, শেষ পর্যন্ত উত্তর পাব।
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘নির্দেশ ও ইন্ধনদাতা’ হিসেবে অভিযুক্ত করে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রাজসাক্ষ্য দিয়ে ‘দোষ স্বীকার’ করায় পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ সরকার নতুন রায়ের পর গত শুক্রবার ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠায় অভিযুক্তদের ফেরত চেয়ে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে একই বিষয়ে পাঠানো চিঠিরও কোনো জবাব দেয়নি দিল্লি।
৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ভারতেই অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা ও কামাল।
ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভারত পর্যবেক্ষক পাঠাতে চাইলে কি সুযোগ দেওয়া হবে, এমন প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, এটা পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের বিষয়। আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। নির্বাচন কমিশন চাইলে তবেই আমরা সহায়তা করব।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি