রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা তিনটি পৃথক মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২৩ জনকে আসামি করে করা এসব মামলার রায় দেবেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রায় ঘোষণার জন্য আগেই দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।
গত রোববার কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি,রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের তারিখ ঠিক করা হয়। অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় তারা নিজেদের পক্ষে কোনো যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেননি কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনও করতে পারেননি।
দুদকের প্রসিকিউটর খান মো. মাইনুল হাসান (লিপন) জানান, এসব মামলায় তারা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা জীবন কারাদণ্ড প্রত্যাশা করেছেন। অন্যদিকে খুরশীদ আলমের আইনজীবী শাহীনুর রহমান দাবি করেন, দুদক তার মক্কেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি; তাই তিনি খালাস পাবেন বলে আশা করছেন।
পূর্বাচলের প্লট বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গত জানুয়ারিতে দুদক মোট ৬টি মামলা করে। এতে অভিযুক্তদের তালিকায় শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেকের নাম রয়েছে।
শেখ পরিবার ছাড়াও অভিযুক্ত হন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, বিভিন্ন সময়ের সদস্য, প্রকৌশলী, পরিচালকসহ মন্ত্রণালয় ও রাজউকের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
দুদকের অভিযোগ সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকার সময় শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ‘অযোগ্য হলেও’ পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন, যা ছিল সরাসরি ক্ষমতার অপব্যবহার।
১৪ জানুয়ারি, ১২ জানুয়ারি ও ১৪ জানুয়ারির তিনটি পৃথক মামলায় মোট ৪৭ জনের বিরুদ্ধে তিন ধাপে অনুসন্ধান ও তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।একেক মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন,সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব, জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান, সদস্য (এস্টেট, ভূমি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), অবসরপ্রাপ্ত সামরিক প্রকৌশলী, উপপরিচালক, পরিচালকসহ প্রায় দুই ডজন কর্মকর্তা।
প্লট বরাদ্দ দুর্নীতি মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। আজকের রায়কে ঘিরে আদালতপাড়া, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং প্রশাসনিক মহলে তীব্র আগ্রহ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। আসামিদের কেউ দোষী প্রমাণিত হলে এটি হবে দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চপ্রোফাইল দুর্নীতি মামলার রায়গুলোর একটি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম