রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: গুগল (অ্যালফাবেট) সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুন সময়কালের স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে তাদের নিকট কনটেন্ট অপসারণের ২৭৯টি অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। এসব অনুরোধের বড় অংশই সমালোচনামূলক কনটেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মিস-ইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা এবং মানহানিকর ক্যাম্পেইন ছাড়াও দেশের কোনো প্রচলিত সংবাদমাধ্যম, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমালোচনা বা মতপ্রকাশভিত্তিক কনটেন্ট সরাতে সরকার কোনো প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করেনি।
সরকার জানায়, মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো তথ্য দিয়ে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চরিত্রহননের চেষ্টা হলে, সেসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা সংস্থা তদন্ত করে। এ ধরনের রিপোর্টই বিটিআরসির মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মগুলোতে পাঠানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনায় কোনো রাজনৈতিক দলের বট বাহিনীর মতো কিছু ব্যবহার করে না। বাংলাদেশের কোনো সংস্থা, বিটিআরসি বা এনটিএমসিসহ সরাসরি কোনো প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট ডাউন করার ক্ষমতা রাখে না। তাই অনুরোধ জানাতে হলে সেটি প্ল্যাটফর্মের নিকটেই পাঠাতে হয়।
সরকার জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুন সময়কালে পাঠানো ২৭৯টি অনুরোধ সংখ্যায় পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের পাঠানো অনুরোধের তুলনায় খুবই কম। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের জুন-ডিসেম্বর ২০২২ সময়কালে অনুরোধ ছিল ৮৬৭টি। জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৪ সময়ে অনুরোধ ছিল মাত্র ১৫৩টি। আর ২০২৩ সালের শেষার্ধে অনুরোধ ছিল ৫৯১টি। অতএব, বর্তমান সরকারের পাঠানো অনুরোধ সংখ্যা আগের তুলনায় পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও কম।
গুগল রিপোর্টে ৬৫ শতাংশ অনুরোধ ‘নট এনাফ ইনফরমেশন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে যার অর্থ, এসব অনুরোধ কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রসূত ছিল না বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
সরকার আরও বলে, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ ভেতর ও বাইরে থেকে নজিরবিহীন মিস-ইনফরমেশন ক্যাম্পেইনের মুখে পড়ে। প্রতিবেশী দেশের কিছু মিডিয়া থেকেও ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা চালানো হয়। পাশাপাশি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত হত্যার বিচার শুরুর পর দলটির পক্ষ থেকে দেশবিরোধী ও সহিংস আহ্বানমুখী অনলাইন কার্যক্রম বাড়যা প্রতিহত করতেই বেশকিছু রিপোর্ট গুগলে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করে সরকার।
বিবৃতিতে বলা হয়, অনলাইন জুয়া ও গ্যাম্বলিংবিরোধী কিছু কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধও পাঠানো হয়েছে। যেহেতু গুগল ‘মিস-ইনফরমেশন’ বা ‘প্রোপাগান্ডা’ নামে আলাদা ক্যাটাগরি ব্যবহার করে না, তাই এসব অনুরোধকে সমালোচনামূলক কনটেন্ট ক্যাটাগরিতে দেখানো হয়েছে। এতে সংখ্যাগত বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করে সরকার।
বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে বলা হয়, সরকারের ব্যাখ্যা না নিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সরকার জানায়, জানুয়ারি-জুন মেয়াদে দেশে একাধিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, বড় আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, মাজার ভাঙাসহ গণপিটুনিতে হত্যার মতো গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিশোধপ্রবণতা ও ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা বেড়েছে। এসব প্রেক্ষাপটে সামাজিক সৌহার্দ্য ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিয়মিত রিপোর্ট করাই সরকারের দায়িত্ব।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বাকস্বাধীনতা ও ইন্টারনেট সূচকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ফ্রিডম হাউসের ‘ফ্রিডম অন দ্য নেট ২০২৫’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গত বছরের তুলনায় একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ অগ্রগতি অর্জন করেছে স্কোর ৪০ থেকে বেড়ে ৪৫ হয়েছে, যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উন্নতি।
সরকারের দাবি, দমনমূলক সরকার অপসারণ, ইন্টারনেট বন্ধ প্রতিরোধে উদ্যোগ এবং সাইবার সুরক্ষায় ইতিবাচক সংস্কারের ফলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি