| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

টিউলিপ সিদ্দিকের বিচার ও দণ্ডাদেশ নিয়ে দুদকের ব্যাখ্যা

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ০৩, ২০২৫ ইং | ০৮:১৭:১৮:পূর্বাহ্ন  |  ১১৭৯৬৮৫ বার পঠিত
টিউলিপ সিদ্দিকের বিচার ও দণ্ডাদেশ নিয়ে দুদকের ব্যাখ্যা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

সিনিয়র রিপোর্টার: গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের বিচার ও দণ্ডাদেশ নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা প্রসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণ করে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে।

বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুদকের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অভিযোগগুলো মূলত শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নামে প্লট বরাদ্দসংক্রান্ত দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নথিতে উল্লেখ আছে, শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান থাকাকালে টিউলিপ সিদ্দিক নিজেও একটি সরকারি প্লট বরাদ্দ পেয়েছিলেন।

তিনটি মামলার মধ্যে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৫–এ বিশেষ মামলা নং ১৮/২০২৫-এর বিচার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ওই মামলায় টিউলিপ সিদ্দিককে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। অভিযোগপত্রে বলা হয়, তিনি তাঁর প্রভাব ব্যবহার করে খালা শেখ হাসিনাকে পরিবারের সদস্যদের জন্য প্লট বরাদ্দে প্ররোচিত ও উৎসাহিত করেছিলেন।

মামলায় মোট ৩২ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁদের কয়েকজন আদালতে শপথ নিয়ে বলেছেন,শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে এসব প্লট বরাদ্দ নিশ্চিত করেন। নথিতে থাকা পরিস্থিতিগত প্রমাণ টিউলিপ, তাঁর মা ও ভাইবোনদের নামে প্লট বরাদ্দ দেখায় যে তিনি একাধিকবার বেআইনি বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। এসব অপরাধ দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ১৬৫(কা), ২০১, ২১৭, ২১৮, ৪০৯ ও ৪২০ ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য।

দুদক জানায়, টিউলিপ সিদ্দিক প্রভাব খাটিয়ে গুলশান–২–এর একটি উচ্চমূল্যের সরকারি প্লট (প্লট নম্বর সিডব্লিউএন (এ)-২৭; পরবর্তীতে প্লট নং ০৫, ব্লক এনই (এ), গুলশান; ফ্ল্যাট ও বাড়ির বিভিন্ন পরিবর্তিত নম্বর) বরাদ্দ নেন। এগুলো ঢাকার অন্যতম অভিজাত এলাকায় সরকারি আবাসন প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জমি, যেখানে একাধিক ফ্ল্যাট বা বড় বাড়ি নির্মাণের সুযোগ ছিল। কমিশনের মতে, এসব বরাদ্দ সরকারি আবাসনের উদ্দেশ্য ব্যাহত করেছে এবং পারিবারিক সম্পদ বৃদ্ধির অনৈতিক প্রবণতা বাড়িয়েছে।

দুদকের তথ্যানুসারে, টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনে পাঁচটি ফ্ল্যাট ক্রয়ের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট, যেগুলো অফশোর কোম্পানির সহায়তায় কেনা হয়। দুদকের প্রশ্ন,জনপরিষেবার সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তি কীভাবে ঢাকা ও লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল দুটি শহরে একাধিক সম্পত্তির মালিক হলেন?

দুদক বলেছে, টিউলিপ সিদ্দিকের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়গুলো আরও পরিষ্কার হতো। তবে তিনি অনুপস্থিত থাকায় আদালত তাঁকে অনুপস্থিতিতেই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাধ্য হয়। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি এ দাবিকে দুদক ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উল্লেখ করেছে। কমিশন জানায়, তাঁকে আদালতে হাজির হওয়ার এবং আইনজীবী নিয়োগের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজেই বিচার এড়িয়ে গেছেন।

দুদকের মতে, উপস্থাপিত নথি, সাক্ষ্য ও পরিস্থিতিগত প্রমাণ স্পষ্ট করে যে টিউলিপ সিদ্দিক দুর্নীতি সহায়তা ও প্ররোচনায় সম্পৃক্ত ছিলেন। অভিযোগ মিথ্যা বা তিনি নির্দোষ এমন দাবি করার কোনো সুযোগ নেই।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪