রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: গত ২১ নভেম্বর সকালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি মানুষকে আতঙ্কিত করেছিল। এক সপ্তাহের মধ্যে ছয়বার কম্পন অনুভূত হওয়ায় সেই উদ্বেগ ফিরে এসেছে। ভূমিকম্পের বিষয়ে মানুষ নানা প্রশ্ন করছেন, বিশেষত দেশের নিকট প্রতিবেশী জাপানকে দেখে।
জাপান প্রতিবছর প্রায় দেড় হাজার ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয়। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অফ ফায়ার’-এ অবস্থানকারী দেশ, যেখানে ইউরেশিয়ান, ফিলিপাইন ও প্যাসিফিক টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয়েছে। ফলে জাপান ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয়।
বাংলাদেশে ভূমিকম্প দুর্যোগ হিসেবে নিয়মিত নয়। সরকারি ও নাগরিক পর্যায়ে প্রস্তুতি কম থাকায় ঝুঁকি বেশি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জাপানের কাছ থেকে বাংলাদেশ অনেক কিছু শিখতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ূন আখতার বলেন, জাপানের নাগরিকরা আতঙ্কিত হন না, কারণ তারা সচেতন ও প্রস্তুত। স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, জাপানে শিশুরা জন্মের পর থেকেই ভূমিকম্প বিষয়ে শেখে, স্কুলে নিয়মিত মহড়া হয় এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
জাপানে নিকটতম পার্ক, খেলার মাঠের মতো আশ্রয়কেন্দ্র সম্পর্কে সবাই জানে। বাংলাদেশের বড় শহরগুলোতেও নিরাপদ জায়গা নির্ধারণ ও জনগণকে তথ্য প্রদান করা প্রয়োজন।
উঁচু ভবনের ক্ষেত্রে জাপান ‘সিসমিক আইসোলেশন’, শক অ্যাবজরবার, মোশন ড্যাম্পার ও মেশ স্ট্রাকচার ব্যবহার করে। ভবনগুলো ভূমিকম্পের শক্তি শুষে নিতে সক্ষম হয়, ফলে মানুষ সুরক্ষিত থাকে।
বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত কম উঁচু ভবন থাকলেও, স্থপতি ইকবাল হাবিব মনে করেন, ছোট ভবনগুলোর ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ ও ভূমিকম্প প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, প্রস্তুতিমূলক মহড়া, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইন-নিয়ম মেনে নির্মাণ কাজের পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। বাংলাদেশও জাপানের মতো ‘প্রতিনিয়ত প্রস্তুত’ ও ‘নিরাপদ বসবাস’ নিশ্চিত করতে পারে।
জাপানের উদাহরণ দেখিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, শুধুমাত্র বিল্ডিং কোড নয়, নাগরিক সচেতনতা ও পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা কার্যকর করার মাধ্যমে ভূমিকম্পের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। -বিবিসি বাংলা
রিপোর্টার্স২৪/এসসি