ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে আবারও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) গভীর রাতে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গত কয়েক মাস ধরে শান্তি আলোচনায় একাধিকবার বসলেও সংঘাত এড়াতে ব্যর্থ হয়েছে দুই পক্ষ। মধ্যরাতে শুরু হওয়া ওই গোলাগুলি কয়েক ঘণ্টা ধরে চলেছে বলে জানিয়েছে সীমান্তের স্থানীয় সূত্র। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর নিশ্চিত করা যায়নি।
আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেন,পাকিস্তান প্রথমে কান্দাহারের বোলদাক এলাকায় হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে পাকিস্তান দাবি করেছে যে আফগান বাহিনী চামান সীমান্তে ‘বিনা উস্কানিতে’গুলি চালানো শুরু করে, যার পর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি বলেন, পাকিস্তান সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। আমাদের ভৌগলিক সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
মাত্র দুইদিন আগে সৌদি আরবে শান্তি আলোচনায় বসেছিল ইসলামাবাদ ও কাবুল। কিন্তু আলোচনায় কোনো সমাধান না আসলেও উভয়পক্ষ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির ৪৮ ঘণ্টা না যেতেই নতুন সংঘাত শুরু হলো।
গত অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে বড় সংঘর্ষে কয়েকশ মানুষের মৃত্যু হয়। পরে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তবে সম্প্রতি পাকিস্তানে ধারাবাহিক আত্মঘাতী ও সন্ত্রাসী হামলা এবং সেগুলোর জন্য আফগান শরণার্থী বা আফগানভূমিকে দায়ী করার ঘটনায় উত্তেজনা আবার বাড়তে থাকে। আফগানিস্তান অবশ্য এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
২০২১ সালে পশ্চিমা বাহিনীকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। এরপর থেকেই প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রায়ই চরমে পৌঁছায়। সর্বশেষ গোলাগুলির ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিল। সূত্র: রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম