রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২–এ সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত হবেন বলে নিশ্চিত করেছে প্রসিকিউশন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্য বিশিষ্ট বিচারক প্যানেলে আজ ২২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেবেন তিনি। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। সকাল ১০টার পর ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে হাসনাত আবদুল্লাহর।
মামলায় মোট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার চলছে, যার মধ্যে মাত্র ছয়জন বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় আছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ। বাকি ২৪ আসামি এখনও পলাতক।
এর আগে ১৮তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে ২৭ নভেম্বর, যেখানে ২১ নম্বর সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজকের দিনটি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল। তবে ২৪ নভেম্বর এক পুলিশ কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিতে এলেও বিশেষ কারণে তার জবানবন্দি নেওয়া হয়নি। ২৩ নভেম্বর এক শিক্ষার্থী সাক্ষ্য দিয়ে জানান, তিনিই আবু সাঈদকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং তাকে মৃত ঘোষণার পর রাস্তা থেকে লাশটি পুলিশ কেড়ে নেয়। পরবর্তীতে পলাতক ২৪ আসামির স্টেট ডিফেন্সসহ গ্রেপ্তার আসামিদের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।
আগের কয়েক দফায়ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী, আন্দোলনকারী ও পুলিশ কর্মকর্তা। ১৬ নভেম্বর মিঠাপুকুর থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিক ১৭ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ১৬ জুলাইয়ের ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দেন। ১৩ নভেম্বর পুলিশের নায়েক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তৎকালীন এসি আরিফুজ্জামান ও তাজহাট থানার ওসি রবিউল ইসলামের নির্দেশেই গুলি চালানো হয়, যাতে নিহত হন ছাত্র আবু সাঈদ। এর আগের দিন এসআই মো. আশরাফুল ইসলামও একই তথ্য দেন।
এ ছাড়া ১০ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত একাধিক শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনের নেতারা আদালতে তাঁদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় গত ২৮ আগস্ট, প্রথম দিন জবানবন্দি দেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ও সাংবাদিক মঈনুল হক। এর আগে ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। পলাতক ২৪ আসামির পক্ষে গত ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তারা পরবর্তী শুনানিগুলোতে অংশ নেন।
মামলায় মোট সাক্ষী তালিকায় রয়েছেন ৬২ জন। তদন্ত সংস্থা ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় এবং ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেয়। এরপর ৩০ জুলাই পর্যন্ত আসামিপক্ষ ও প্রসিকিউশনের বিভিন্ন শুনানি সম্পন্ন হয়।
আজকের সাক্ষ্য, মামলার অগ্রগতিতে নতুন গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম