রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) আয়োজিত ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পরিস্থিতি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশের যে কোনো ধরনের সংস্কারের প্রধান বাধা আমলাতন্ত্র।
তিনি বলেন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনে শতাধিক সুপারিশ জমা পড়লেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৮টি প্রস্তাবনায়, যার প্রথমটিই টয়লেট পরিষ্কারের মতো গৌণ বিষয়। দুদক সংস্কার কমিশনের প্রায় সব প্রস্তাবনায় রাজনৈতিক দলগুলো একমত হলেও বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি নেই। তার দাবি, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও আইন প্রণয়নে গোপনীয়তা বজায় রাখছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি দূর না হলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমকে ‘পাবলিক গুড’ হিসেবে সুরক্ষা না দিলে এ খাতে পরিবর্তন আসবে না। গণমাধ্যম কমিশনের প্রতিবেদন ইতোমধ্যেই উপেক্ষিত হচ্ছে; বাস্তবায়ন হয়নি প্রায় কিছুই। তার মতে, বিগত বছরগুলোতে কর্তৃত্ববাদী কাঠামো গড়ে ওঠার অন্যতম সহযোগী ছিল গণমাধ্যমের একটি অংশ, যার ফলে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন,‘চব্বিশের ৫ আগস্টের বিকাল থেকে দখল, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য হয়েছে যেখানে গণমাধ্যমের অংশগ্রহণও ছিল।” তার মতে, গত ১৫ বছরে কর্তৃত্ববাদ চরমে পৌঁছায় এবং বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়িত হয়নি।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি