সিনিয়র রিপোর্টার: বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতেই স্বাধীনতার উষালগ্নে শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল। ঠিক একই উদ্দেশ্যে আজ বাংলাদেশের রাজনীতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাহসী সেনানী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলি চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ)।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, স্বাধীনতার প্রাক্কালে পরাজিত অপশক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী-আধিপত্যবাদী চক্র পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। আজও একই কায়দায় রাজনীতিকে নেতৃত্বশূন্য ও মেধাহীন করার ষড়যন্ত্র চলছে। শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এর পেছনের প্রকৃত রহস্য গভীর এবং সরকারকে তা উদ্ঘাটন করতে হবে।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা বলেন, দেশমাতৃকার স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের অবদান কোনো দিন ম্লান হবে না। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আকাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলাই আজ সময়ের দাবি।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলা জুলাই গণঅভ্যুত্থান, গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। এটি নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট করে গণতন্ত্রকে অকার্যকর করার সুদূরপ্রসারী নীলনকশার অংশ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রের প্রশ্নে কোনো আপস হতে পারে না। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ একই সূত্রে গাঁথা। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই চেতনার ভিত্তিতেই জনগণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।
নেতৃদ্বয় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কেউ যদি দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ বা সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়, জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে এবং রুখে দাঁড়াবে। জুলাইয়ে তরুণরা আত্মত্যাগ করেছে ক্ষমতা বা পদ-পদবির জন্য নয়; করেছে দেশ সংস্কার, গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক করা এবং ফ্যাসিবাদের চির অবসানের লক্ষ্যে। সেই লড়াই অব্যাহত রাখাই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি