| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জিয়াউলের বিরুদ্ধে তিন শতাধিক গুম ও ক্রসফায়ারের অভিযোগ, আমলে নিল ট্রাইব্যুনাল

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫ ইং | ২১:০৪:৩১:অপরাহ্ন  |  ১১২৬৭৩২ বার পঠিত
জিয়াউলের বিরুদ্ধে তিন শতাধিক গুম ও ক্রসফায়ারের অভিযোগ, আমলে নিল ট্রাইব্যুনাল

সিনিয়র রিপোর্টার: আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত তিন শতাধিক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তিন শতাধিক মানুষকে গুম ও বিনা বিচারে হত্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বুধবার অভিযোগগুলো আমলে নিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের ওপর শুনানির জন্য ২১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে মেজর পদে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) গোয়েন্দা বিভাগে পোস্টিং পাওয়ার পর জিয়াউল আহসান বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। এর ফলে ২০২৪ সালে মেজর জেনারেল হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহণ পর্যন্ত তাকে আর কখনও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ফেরত যেতে হয়নি। তিনি পুরো সময়ই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থায় কর্মরত ছিলেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় কোর্স ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং কোনও ব্যাটালিয়ন, ব্রিগেড বা ফর্মেশন কমান্ডের অভিজ্ঞতা ছাড়াই জিয়াউল আহসান মেজর জেনারেল পদে উন্নীত হন, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত র‍্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক ও এডিজি (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অসংখ্য বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে তিনি সরাসরি অংশ নেন অথবা তার প্রত্যক্ষ নির্দেশ, অনুমোদন ও জ্ঞাতসারে এসব অপরাধ সংঘটিত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধান তিনটি অভিযোগ

অভিযোগ–১: গাজীপুরে সজলসহ তিনজন হত্যা

২০১১ সালের ১১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে অবৈধভাবে আটক সজলসহ তিন থেকে চারজনকে নিয়ে জিয়াউল আহসান ও তার দল গাজীপুরের দিকে রওনা হন। ঢাকা বাইপাস সড়কে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে বন্দীদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে একাধিক বন্দীকে জিয়াউল আহসান নিজ হাতে গুলি করেন। নিহতদের লাশ রাস্তার পাশে ও খালে ফেলে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ দুটি লাশ উদ্ধার করে এবং একজনকে সজল হিসেবে শনাক্ত করা যায়।

অভিযোগ–২: বরগুনার বলেশ্বর নদীতে কমপক্ষে ৫০ জন হত্যা

বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকা ও বলেশ্বর নদীর মোহনা জিয়াউল আহসানের পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ‘হটস্পট’ ছিল। গভীর রাতে বন্দীদের ট্রলার বা নৌকায় নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে মাথা বা বুকে বালিশ চেপে গুলি করা হতো। পরে লাশ পেটে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে পানিতে ফেলা হতো। এই পদ্ধতিকে ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোডনামে পরিচালনা করা হতো। সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম মল্লিক ও আলকাছ মল্লিকসহ কমপক্ষে ৫০ জনকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে।

অভিযোগ–৩: বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনে হত্যাকাণ্ড

তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা অভিযান চালানো হতো। পূর্বে আটক ও গুম থাকা ব্যক্তিদের বনদস্যু হিসেবে সাজিয়ে গভীর রাতে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ দেখানো হতো। এসব অভিযানে র‍্যাবের বাছাই করা সদস্যরা অংশ নিত এবং অনেক ক্ষেত্রে জিয়াউল আহসান নিজেই উপস্থিত থাকতেন। এই ধারাবাহিকতায় ‘অপারেশন নিশানখালী’, ‘অপারেশন মরা ভোলা’ ও ‘অপারেশন কটকা’-তে অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

অন্যান্য অভিযোগ ও চলমান তদন্ত

তদন্তে ঢাকার বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীতে ২০১০–২০১৩ সালে অন্তত ২০০ জনকে হত্যার অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইলিয়াস আলী, সাজেদুল ইসলাম সুমন, ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলমসহ বহু ব্যক্তির গুম, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ দমন অভিযানে কমপক্ষে ৬১ জন নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক হত্যাসহ আরও অসংখ্য ঘটনার সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে। এসব বিষয়ে পৃথক তদন্ত চলমান রয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গাজীপুরে তিনজন হত্যা, বরগুনার পাথরঘাটায় ৫০ জন হত্যা এবং সুন্দরবনে বনদস্যু দমনের নামে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে হত্যার তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে তিন শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার সংশ্লিষ্টতার তথ্য রয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গত বছর ৫ আগস্টের পর রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। জিয়াউল আহসান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪