স্টাফ রিপোর্টার: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির মরদেহ রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রাখা হয়েছে।
এর আগে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন, ‘হাদির মরদেহ এখানে রাখার ব্যাপারে আপাতত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তারা আমাদের জানালে আমরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।’ তবে তিনি এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।
ইতোমধ্যে হাসপাতালের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের আগারগাও বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘হাদির মরদেহ এখানে রাখার কথা জানানো হলে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি।’
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে মরদেহ বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।
প্রথম পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের দ্য আঙ্গুলিয়া মসজিদে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টায় হাদির জানাজা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশন এক ফেসবুক পোস্টে জানায়, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় জানাজা সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। হাইকমিশন দুঃখ প্রকাশ করছে এবং প্রবাসী ভাইদের সিঙ্গাপুরের আইন মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে।’
এরপর ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, বিমানবন্দর থেকে কফিন সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হবে। সংগঠনটি ফেসবুকে জাতীয় পতাকা মোড়া হাদির কফিনের ছবি প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় যাত্রাকালে ওসমান হাদির উপর মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন আক্রমণ করে গুলি চালায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে পরিবারের ইচ্ছায় তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরিত হন এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা চলতে থাকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল, সেখানে বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব