| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দীপু দাসের জন্য বিচার দাবিতে স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীরা

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫ ইং | ১৩:৫১:২১:অপরাহ্ন  |  ১০৯২১২১ বার পঠিত
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি,এনডিটিভি

রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: বাংলাদেশের ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা ও পরে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। গত সপ্তাহে সংঘটিত ওই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরঙ্গ দলের নেতৃত্বে আয়োজিত এ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সংগঠনগুলোর দাবি, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন ও ধর্মীয় স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি। বিক্ষোভকারীরা দীপু দাসের হত্যার বিচার ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান এবং নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিছু বিক্ষোভকারী বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি দাবি করেন এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার আহ্বান জানান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী ব্যারিকেডে ধাক্কা দিলে উত্তেজনা বাড়ে। এ সময় ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘ইউনূস সরকার হুঁশে আসো’ এবং ‘হিন্দু হত্যা বন্ধ করো’এমন স্লোগান দিতে দেখা যায়। অন্তত দুই স্তরের ব্যারিকেড ভাঙতে সক্ষম হন বিক্ষোভকারীরা।

একজন বিক্ষোভকারী বলেন, আজ যদি আমরা আওয়াজ না তুলি, তাহলে আমিও দীপু হব, আপনিও দীপু হবেন।

আরেকজন বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের হত্যা করা হচ্ছে। এটি রাম ও কৃষ্ণের দেশ। আমরা কাউকে হত্যা করি না, অথচ সেখানে আমাদের বোন ও মেয়েদের ধর্ষণ করা হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে ডিপু দাসের জন্য বিচার দাবি করেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পুনরায় ব্যারিকেড স্থাপন করে। আগেই সম্ভাব্য বিক্ষোভের বিষয়ে সতর্ক ছিল নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাইকমিশনের বাইরে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যারিকেড বসানো হয় এবং পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড

দীপু চন্দ্র দাস (২৫) নামে এক পোশাক কারখানার কর্মীকে গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে একদল লোক পিটিয়ে হত্যা করে। পরে তার মরদেহে আগুন দেওয়া হয়। এই ঘটনা দেশ-বিদেশে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দেয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব বাংলাদেশের

এর আগে, ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে বাংলাদেশ। নয়াদিল্লি ও শিলিগুড়িতে সংঘটিত ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে এই তলব করা হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাকে বাংলাদেশ তীব্রভাবে নিন্দা জানায়। এ ধরনের ঘটনা কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তি ও সহনশীলতার নীতিকে ক্ষুণ্ন করে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কূটনৈতিক কর্মী ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ শিলিগুড়িতে বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারে ভাঙচুর এবং ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।

ভারত অবশ্য নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছে, নয়াদিল্লির বিক্ষোভটি স্বল্পস্থায়ী ছিল এবং এতে কোনো বড় ধরনের হুমকি তৈরি হয়নি। বাংলাদেশে এক হিন্দু যুবক হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।সূত্র: এনডিটিভি

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪