রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনের পর দেশে ফেরার স্বপ্ন আজ বাস্তব। তিল তিল করে মাটিতে নেমে এসেছে লাখো মানুষের ভিড়। বাতাসে উড়ছে লাল-সবুজ পতাকা, হাতে ব্যানার, চোখে অশ্রু, মুখে উল্লাস। আর মঞ্চে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেই নেতা, যার প্রত্যাবর্তনের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিকেল ৩টার দিকে ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজন করা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি দাঁড়িয়ে সমগ্র উপস্থিত জনতার দিকে তাকালেন। তাদের চোখে চোখ রেখে বললেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা, প্রিয় মা-বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম। আজ আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি।
মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ
তারেক রহমানের ভাষণে উঠে এলো দেশের ইতিহাসের প্রতিটি ধ্বনি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে ৭৫-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান, নব্বইয়ের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান সবই স্মৃতিতে জাগ্রত। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে আমাদের তরুণ প্রজন্মের সদস্যরা আবারও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। ওসমান হাদিসহ যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
আই হ্যাভ আ প্ল্যান
ভাষণের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারেক রহমান মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত উক্তি ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’-এর সঙ্গে তুলনা করে ঘোষণা করেন, আই হ্যাভ আ প্ল্যান, ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি।
তিনি জানান, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তাঁর একটি সুপরিকল্পিত রূপরেখা আছে। তবে সেটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষের সহযোগিতা।
নিরাপদ বাংলাদেশ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা
তারেক রহমান বারবার জোর দেন,দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যে কোনো উসকানির মুখে ধৈর্যশীল থাকতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে একজন নারী, শিশু বা পুরুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে পারবে এবং নিরাপদে ফিরবে।
সকলের ঐক্য ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আহ্বান
তিনি আহ্বান জানান, পাহাড়ের মানুষ হোক বা সমতলের মানুষ, মুসলমান হোক বা হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান সবাই মিলে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
আজ আমাদের সময় এসেছে, সকলে মিলে দেশ গড়ার। এই দেশ হবে প্রত্যেক মানুষের জন্য সমান অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতীক।
আবেগঘন সমাপ্তি
ভাষণের শেষভাগে তিনি তাঁর মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সুস্থতার জন্য দেশের মানুষের কাছে দোয়া কামনা করেন। হাত তুলে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন, যেন দেশবাসীর জন্য তিনি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হন।
তারেক রহমানের ভাষণ শেষ হয় একটি দৃঢ় প্রতিজ্ঞার সঙ্গে সবাই মিলে করবো কাজ, গড়বো মোদের বাংলাদেশ। যে কোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তিনি মায়ের কাছে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। তবে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রত্যাশা, পরিকল্পনা এবং আহ্বান দেশের কোটি মানুষের মনে গভীর ছাপ রেখে যায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যেখানে গণতন্ত্র, শান্তি ও নিরাপত্তা একসাথে বাঁচবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি