সিনিয়র রিপোর্টার: রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি মাদ্রাসা ভবনে শুক্রবার সকালে বিস্ফোরণের ঘটনায় বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক ও ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে মূল সন্দেহভাজন শেখ আলামিন পলাতক রয়েছেন।
বিস্ফোরণটি শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসনাবাদ এলাকার উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা ভবনে ঘটে। এতে অন্তত চারজন আহত হন, যাদের মধ্যে আলামিনের স্ত্রী আসিয়া ও তাদের তিন সন্তানও আছেন। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি ল্যাপটপ, দুটি মনিটর, বিভিন্ন লিকুইড রাসায়নিক এবং চারটি ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকরা রাসায়নিকের মধ্যে কিছু কন্টেইনারে ‘হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড’ লেখা ছিল। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০০ লিটার লিকুইড রাসায়নিক পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণ রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে হয়েছে নাকি বিস্ফোরক ব্যবহারের কারণে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এন্টি টেরোরিজম ইউনিট এবং সিআইডি’র ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এ ঘটনায় আসিয়া ও তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার, এবং আসমানি খাতুন নামে আরেক নারীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রধান সন্দেহভাজন শেখ আলামিন এখনো পলাতক। পুলিশের ধারণা, তারা ভবনে বিস্ফোরকজাত দ্রব্য নিয়ে কাজ করছিলেন।
পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ জনবহুল এলাকা হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি। তিনি নাগরিকদের সতর্ক করে বলেন, সন্দেহজনক কোনও কর্মকাণ্ড নজরে এলে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি