আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান যদি আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে,এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে হামাসকে অবিলম্বে নিরস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনে উদ্যোগ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা সমর্থন বা চালাতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে নিরস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন।
ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হামলার পরও ইরান ভিন্ন ভিন্ন স্থানে আবার অস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
ট্রাম্প বলেন, আমরা পড়ছি যে তারা আবার অস্ত্র বানাচ্ছে। যদি তাই হয়, তবে তারা আগের ধ্বংস করা স্থাপনাগুলো ব্যবহার করছে না, বরং অন্য জায়গায় কাজ করছে। আমরা জানি তারা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে।
এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ব্যবহৃত বি-টু বোমারু বিমানের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ৩৭ ঘণ্টার যাত্রা এত জ্বালানি নষ্ট করতে আমি চাই না। আশা করি তারা আমাদের বাধ্য করবে না।
ট্রাম্প আরও জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার আলোচনায় গাজায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ, ইরান ও লেবাননে হিজবুল্লাহ নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ গুরুত্ব পেয়েছে।
এরই মধ্যে ইরান জানায়, তারা চলতি মাসে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া চালিয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চায় না, তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
গাজা যুদ্ধের দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে চাপ
ট্রাম্প বলেন, তিনি গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে যেতে চান, যেখানে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। তবে এই ধাপে সবচেয়ে বড় শর্ত হলো হামাসের নিরস্ত্রীকরণ।
হামাস এখনো অস্ত্র ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে এবং ইসরায়েলি বাহিনী গাজার প্রায় অর্ধেক এলাকায় অবস্থান করছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প হামাসের ওপর দায় চাপিয়ে বলেন, “ইসরায়েল চুক্তির শর্ত মানছে, কিন্তু হামাস মানছে না।
হামাস অস্ত্র না ছাড়লে কী হবে এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ভয়াবহ পরিণতি হবে। চরম মূল্য দিতে হবে।” অতীতেও তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।
ইসরায়েল জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে হামাস নিরস্ত্র না হলে আবার সামরিক অভিযান শুরু করা হবে।
আঞ্চলিক কূটনীতি ও তুরস্ক প্রসঙ্গ
বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেন, গাজায় তুরস্কের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসতে পারে। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর, কারণ ইসরায়েল ও তুরস্কের সম্পর্ক বর্তমানে বেশ সতর্ক পর্যায়ে রয়েছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পুরোপুরি সহিংসতা থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। একই সময়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় তিন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, পশ্চিম তীর ইস্যুতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার পূর্ণ ঐকমত্য হয়নি, তবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
রয়টার্স /রিপোর্টার্স২৪/এসসি